ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার ‘কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে’ থাকায় তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমঝোতা বা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত কাল ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, “ইরানি শাসকদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন... দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নয় এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দু’দশক ধরে টানাপোড়েনের জের ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বিমান অভিযান শুরু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং সেদিন থেকেই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। সংঘাতের প্রথম দিনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান এবং তার জবাব হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। দু’পক্ষের এই অবরোধ-পাল্টা অবরোধের কারণে গত ৮ মাস ধরে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চলছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর মধ্যে দু’বার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দু’পক্ষ। গত জুন মাসে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে; কিন্তু এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আর ফলপ্রসূ হয়নি।
যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন রুবিও। এ ধরনের হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন; সেই সঙ্গে এ কৌশলকে নাৎসী বাহিনীর সাবমেরিন কৌশলের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
রুবিও বলেছেন, ““আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি। এটা রীতিমতো নজিরবিহীন।”
“তারা এমন কৌশল ব্যবহার করছে যা নাৎসি সাবমেরিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন একটি বিষয়, যার নিন্দা জানাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
উল্লেখ্য, মধ্যস্থতা তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফরে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেখানে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
সে বৈঠকে বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৭টি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।
