মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় যোগ দিতে মাগুরা জেলা থেকে ফরিদপুরে এসেছিলেন সাত শিক্ষার্থী। সভা শেষে সাতজনের দলটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ফিরছিলেন মাগুরায়। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তাদের সবার। পথে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন একে একে তিনজন। এরই মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে একই অঞ্চলের একই মহাসড়কে বালুবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন এক মা ও তার সাত বছরের ছেলেসহ অজ্ঞাত ইজিবাইক চালক।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এবং ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সাতজনের দলের সদস্যরা হতাহত হন। এ ঘটনায় তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্য নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা সবাই মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা। ‘ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভায় অংশ নিতে তারা ফরিদপুরে এসেছিলেন। সভা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁদের একজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবার পরিচয় নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে প্রথম দুর্ঘটনা বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংর্ষের প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় ঘটে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারান সুমি বেগম (৩২) ও তার সাত বছরের ছেলে শাওন। এ ঘটনায় ট্রাক উল্টে বালির নিচে চাপা পড়ে অজ্ঞাত ইজিবাইক চালক। পরে সন্ধ্যার দিকে ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮)। তাদের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির একাংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
অন্যদিকে ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে তিনজনকে এবং ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক সুমি বেগম ও তার ছেলে শাওনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যার পরে বালুর নিচ থেকে অজ্ঞাত ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে প্রথমে তিনজন নিহততের ঘটনাার প্রায় এক ঘন্টা পরে একই মহাসড়কে কানাইপুর তেতুলতলা নামকস্থানে একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মা-ছেলে ও অজ্ঞাত ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছে। দুই ঘটনার নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
