ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের স্বীকৃত মাদরাসাগুলোতে শুক্রবারের ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে রোববার ছুটি চালুর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যটির বিজেপি সরকার। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা ও নিয়ম কার্যকরের যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধিকার ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ স্বীকৃত এবং স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় থাকা সব মাদরাসাকে সাধারণ সরকারি স্কুলের মতো একই নিয়মে রোববার সাপ্তাহিক ছুটি পালন করতে হবে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রায় ২০৬টি মাদরাসার ওপর কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ইসলামি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিতে জুমার নামাজের জন্য শুক্রবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘকাল ধরে মাদরাসাগুলোতে এ দিন সাপ্তাহিক ছুটি বহাল ছিল। তবে নতুন নিয়মে শুক্রবারে নিয়মিত পাঠদান চলবে এবং ছুটি থাকবে রোববার। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরের নামাজের জন্য শিক্ষার্থীদের সময়সূচির বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সরকারের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, শিক্ষায় সমতা রক্ষা এবং মাদরাসাগুলোকে মূলধারার সঙ্গে একীভূত করতেই এমন অভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক শিক্ষার পথ সুগম করার অংশ হিসেবেই মাদরাসাগুলো সাধারণ স্কুলের নিয়মে পরিচালিত হবে বলে তিনি দাবি করেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এর আগে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ছিল। নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠান সাধারণ স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আরও ১১৪টি আবেদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও আসন্ন নির্বাচনের আগে মেরুকরণ সৃষ্টির স্বার্থে বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে মাদরাসা ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কাঠামোগত আধুনিকায়ন ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুশীলন ও সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের রয়েছে। অভিন্ন নিয়মের অজুহাতে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বাস্তবতা অগ্রাহ্য করা হলে তা সামাজিক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
