কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: চুক্তি অনুযায়ী শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব বোনাস না পাওয়ার অভিযোগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিন চা বাগানের শ্রমিকেরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার আলীনগর চা বাগান হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় দুর্গাপূজার আগেই শ্রমিকদের ন্যায্য বোনাস পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
ডানকান ব্রাদার্সের আলীনগর চা বাগান এবং এর ফাঁড়ি সুনছড়া ও কামারছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আলীনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গণেশ পাত্র। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, কামারছড়া চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি দিলিপ কৈরী, শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, সজল কৈরী ও শ্যামল গোস্বামীসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, চা শ্রমিকেরা সারা বছর রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কঠোর পরিশ্রম করেন। অথচ বছরের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় তাঁদের উৎসব বোনাস নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী কর্মদিবস গণনা করে বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকদের অভিযোগ, সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার ও বার্ষিক ছুটির মজুরির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধু প্রকৃত কর্মদিবস হিসাব করে বোনাস দেওয়া হয়েছে। অর্জিত ছুটির দিনগুলোও কর্মদিবস হিসেবে গণনা করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাঁদের প্রাপ্য বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে আলীনগর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক এ জেড এম রফিউল আলম বলেন, আমরা চুক্তি অনুযায়ীই ন্যায্য বোনাস প্রদান করেছি। অন্য চা বাগানের সঙ্গে তুলনা করলেই হিসাব পাওয়া যাবে।
মানববন্ধনে বক্তারা ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা-শিল্পের নিম্নতম মজুরি-সংক্রান্ত গেজেটের উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকদের উৎসব বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে উপস্থিতির শর্ত আরোপের সুযোগ নেই। তাঁরা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাস পরিশোধের দাবি জানান।
এদিকে, গত ১২ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা অভিযোগ করেন, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগে অনেক চা বাগানের শ্রমিক উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও পূর্ণাঙ্গ বোনাস দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
বিবৃতিতে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন চা বাগানে উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মে উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এতে শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
