‘অপরাধ’, মক্কাভূমে ফতোয়া উড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট! শরিয়া আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানে ঘনিষ্ঠ হওয়া অপরাধসম। আর সেই প্রেক্ষিতেই মক্কায় তীর্থ করতে গিয়ে আদরে লিপ্ত হওয়া বাংলাদেশি দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। এই ঘটনার পরেই রিয়াদের জবাব তলব করেছে ঢাকা। যদিও সেই জবাব এখনও পর্যন্ত আসেনি বলেই জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র শহিদুল করিম। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই ভেঙে পড়েছেন বাবা ফজল মিয়া।
জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের বাসিন্দা সুইটি আক্তার (২৫)। তাঁর বাবা ফজল জানান, ফোন করে জানানো হয়েছিল মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকমাসের মধ্যেই মুক্তি মিলবে। কিন্তু হঠাৎ মেয়ের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন পেশায় দিনমজুর ফজল। তিনি বলেন, ”আমি ধার-দেনা করে মেয়ে সুইটিকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। মাটি কেটে ও ভ্যান চালিয়ে মেয়ের ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা করছি এখনও। কিন্তু এখন শুনছি আমার মেয়েকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।” তাঁর কথায়, ”গত মঙ্গলবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় দুবার মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সেই সময়েও সুইটি বলেছিল দু’মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরবে।” অন্যদিকে সুইটির বড় বোন বিউটি বেগম জানান, ২০১৭ সালে সুইটির প্রথম বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে উপজেলার মহেড়া গ্রামের শিপন নামের এক যুবকের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর শিপন সৌদি আরব যান। সেখানে গিয়ে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। পরে জানা যায়, সৌদি আরবে শিপন আরও একটা বিয়ে করেছেন। পরে তাঁকে ডিভোর্স দেয় সুইটি।
বিউটি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ধার করে সৌদিতে সুইটিকে পাঠান বাবা। সেখানকার একটি সংস্থায় কাজ পান। কিন্তু এমন যে হতে পারে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারছেন না বিউটি। তবে এই ঘটনাকে কড়াভাবে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি সম্পর্কে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, আদালতের রায়, কী অপরাধে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি—এসব বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সৌদি সরকার এখনও কোনও জবাব দেয়নি বলেই দাবি বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রকের। বলে রাখা প্রয়োজন, সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে ‘চুম্বন’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন বাংলাদেশি যুগল। বুধবার নারী, পুরুষ উভয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
