সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের তৎকালীন জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল তৈরি ও পাস করে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা
মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করা হয়। এসব বিলের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে মো. আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ অনিয়মের সঙ্গে কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের যোগসাজশ ছিল।
তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্যের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের বাধ্যতামূলক অবসর : আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে ভুয়া বিল দাখিল এবং প্রাধিকার না থাকা সত্ত্বেও বিমান ভ্রমণের বিলের বিপরীতে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা বিভিন্ন জেলা আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন। এ ছাড়া ভ্রমণ বিল ও বিবরণীতে ভ্রমণকারী কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এবং প্রত্যয়নকারীর স্বাক্ষরের জায়গায় তিন ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তিন ক্ষেত্রেই প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহার করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের ২৮ জুন ষষ্ঠ গ্রেডে রাসায়নিক পরীক্ষক পদে যোগ দেন ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি একই গ্রেডে কর্মরত ছিলেন। এ সময় দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকার না থাকলেও ২৩ বছরে শতাধিকবার বিভিন্ন স্থানে বিমানযোগে যাতায়াতের ভ্রমণ বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।
ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেট বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে সংযুক্ত রয়েছেন এবং রাসায়নিক পরীক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
