Published on
:
1 min read
এই সময়, টাকি: পুরসভায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নামল সিআইডি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) ১০ জন আধিকারিক শুক্রবার টাকি পুরসভায় এসে তদন্তের প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। সূত্রের খবর, তদন্তের প্রথম পর্যায়ে পুরসভার বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়কে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব। রাত দশটা নাগাদ পুরসভা থেকে বেরিয়ে কলকাতা রওনা দেন আধিকারিকরা।
রাজ্যে পালাবদলের পর টাকি পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদ্যোৎ দাস পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আট বছরে টাকি পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ অবিলম্বে পুরসভার বিভিন্ন নথি সংরক্ষনের নির্দেশ দেয়। সিট গঠন করে সিআইডিকে তদন্ত করার নির্দেশও দেয় আদালত।
সেই মতো সিআইডি আধিকারিকরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ টাকি পুরসভায় আসেন। ২০১৮ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দুর্নীতির মধ্যে অন্যতম ইছামতী নদীতে ভাসমান রেস্তোরাঁ তৈরির নামে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা তছরুপ। মাত্র ৪২০ টাকার লিজে চার বিঘা জমি এবং নদীর ধারে একটি বিলাসবহুল হোটেলের জন্য বছরে মাত্র ১২০ টাকার লিজে জমি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুরসভার একজন করণিকের অ্যাকাউন্টে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ৭২ লক্ষাধিক টাকা জমা করা–সহ একাধিক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তোলা হয় পুরপ্রধান ও পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে।
পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানান, তদন্তকারী আধিকারিকদের সব রকমের সাহায্য করা হয়েছে।
