উৎসবের আলো, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের ভিড়, চারদিকে আনন্দের আবহ। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে ভিড়ের চাপে প্রাণ হারালেন ১৭ বছরের তরুণী আকৃতি কুমারী। তাঁর অকালমৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে হাওড়ার লিলুয়ার ভট্টনগরের দক্ষিণ আনন্দনগর সুকান্তপল্লি চকপাড়া এলাকায়। যে বাড়িতে উৎসবের আনন্দ থাকার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আকৃতি তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিহারের গয়া থেকে কলকাতায় এসেছিলেন দুর্গাপুজো দেখতে। শনিবার বৃষ্টির জেরে পুজোমণ্ডপ চত্বরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে পড়ে বিপদের মুখে পড়েন আকৃতি। তাঁর সঙ্গে থাকা গয়া থেকে আসা আরও দুই তরুণীও এই ঘটনায় আহত হন। গুরুতর জখম অবস্থায় আকৃতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
রবিবার সকালে আকৃতির বাড়িতে পৌঁছে দেখা যায় শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের। মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা-বাবা। আত্মীয়স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের চোখেও জল। আচমকা এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পুজো দেখতে এসে যে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।
খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে আকৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়ান বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং। রাত পর্যন্ত শোকাহত পরিবারের সঙ্গে থেকে তাঁদের সান্ত্বনা দেন তিনি। পাশাপাশি সবরকম প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাসও দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মন্মথ হালদার ও পূজা সাউরা জানান, “এমন মর্মান্তিক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিড়ের চাপে একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। শোকে আমাদের মুখ দিয়ে কোনো কথা বার হচ্ছে না।”
গোটা এলাকায় এখন শোকের আবহ। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই এমন মৃত্যু ফের সামনে আনল ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। উৎসবের আনন্দ যাতে কারও পরিবারের কাছে আজীবনের যন্ত্রণা হয়ে না ওঠে, সেই দিকেই এখন নজর সকলের।
