মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি বলেন, শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তিই রাষ্ট্রের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষাকে শুধু প্রকল্প হিসেবে নয়, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সবুজবাগ সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবুজবাগ সরকারি কলেজ একটি মেধাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানে ভর্তির জন্য অনেক অভিভাবক তাঁর কাছে সুপারিশ নিয়ে আসেন। তবে মেধার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দিতে চান না তিনি। যারা মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তারাই এ কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।
কলেজের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শিক্ষকদের যাতায়াত এবং কলেজের কাগজপত্র, প্রশ্নপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা-নেওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাসের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করতে না পারলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদেই কলেজটির জন্য একটি মাইক্রোবাস দেওয়া হবে।
এ ছাড়া আগামী দুই মাসের মধ্যে কলেজে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অনার্স-মাস্টার্স চালুর বিষয়েও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয় করে এ ধরনের আয়োজন করা উচিত নয়। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই অর্থ কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন, যাতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর কোনো আর্থিক চাপ না পড়ে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়; শিক্ষা মানুষকে যোগ্য, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। জীবনে সফল হতে হলে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, সততা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দক্ষ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, গবেষক ও নীতিনির্ধারক। তাদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
দেশ গঠনে শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের কৃষক মাঠে ফসল ফলান। শ্রমজীবী মানুষ রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তাঁদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়েই দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে ওঠে। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগও স্মরণ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সড়ক, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে শিক্ষাজীবনে পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তাঁর হয়নি। স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে শিক্ষক ফয়জুর রহমানের শাস্তি পাওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। শতভাগ উপস্থিতি ও মেধার স্বীকৃতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত উপস্থিতি, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে তাদের এগিয়ে রাখবে।
সবুজবাগ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। তোমাদের চোখে আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেখতে চাই। তোমাদের হাত ধরেই বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
সবুজবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নূর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
