সংবাদ · সাধারণ
ইউরোপ জুড়ে জেন-জির তীব্র বিক্ষোভ: কেন এই হুংকার!
২৪/১০/২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখন এক নজিরবিহীন উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এই বৃহৎ বিক্ষোভে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জি বা জেন-জি।শিক্ষায় অর্থের তীব্র অভাব, মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার ব্যয়, চরম অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং ক্রমাগত ঘনীভূত হওয়া জলবায়ু সংকটসহ নানা কারণে তারা তীব্র ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এসব ধারাবাহিক বিক্ষোভ এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের সঙ্গে আগের প্রজন্মের সুযোগ-সুবিধার বিশাল ব্যবধান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশার করুণ চিত্রও সামনে আসছে।দেশভেদে আন্দোলনের বাহ্যিক কারণ কিছুটা আলাদা হলেও এর পেছনে রয়েছে একটি অভিন্ন অসন্তোষ। তরুণদের মূল আশঙ্কা, তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্মের মতো সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত মানসম্মত জীবন তারা হয়তো কখনোই পাবেন না।আন্দোলনের এই তীব্র আগুন এখন দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফ্রান্সের প্রধান শিক্ষার্থী সংগঠন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দ্য ব্রিতো জানান, "দেশগুলোর মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি। শিক্ষায় বিনিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন সংকট নিয়েও সবাই কথা বলছে।"ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালির শিক্ষার্থী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা সাবরিনা ব্রিজোলাও গত সপ্তাহান্তে এক সমাবেশে একই ধরনের জোরালো দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এমন বিদ্যালয়ের জন্য সোচ্চার হতে হবে, যেগুলোর ভবন শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ভেঙে পড়বে না। পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার।"ইউরোপীয় রাজনীতি ও চলমান সংকটের গভীরতা নিয়ে বিশ্লেষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ইউরোপিয়ান করেসপন্ডেন্টের দৈনিক নিউজলেটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিন্টেলমানের মতে, এসব বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মূল সত্যটাই প্রকাশ পাচ্ছে। ফিন্টেলমান সরাসরি বলেন, "উদার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল; পরবর্তী প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে ভালো জীবন পাবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখন আর বাস্তব বলে মনে হচ্ছে না।"এ দিকে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট ঘাটতি ও অব্যস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট দ্য ব্রিতো আরও হুংকার দিয়ে বলেন, "মানুষ এখন উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ক্লান্ত।"এই অসন্তোষ দ্রুত সীমানা ছাড়িয়ে গেছে এবং এথেন্সে পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হওয়া একদল আন্দোলনকারী স্লোগান দিয়ে উঠে, "গ্রিস থেকে ফ্রান্স; আমরা সরকারি ও বিনা মূল্যের শিক্ষা চাই।"তবে সব দেশের সরকার এই ক্ষোভকে একইভাবে দেখতে নারাজ। সার্বিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জিউসেপ্পে ভালদিতারা চলতি মাসের শুরুতে এক মন্তব্যে জানান, "ইতালি ও ফ্রান্সের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা।"তার দাবি অনুযায়ী, ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির সমস্যাই এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ, যা ইতালিতে অনুপস্থিত। কিন্তু বাস্তবে রাজপথ ছাড়তে নারাজ বিক্ষুব্ধ জনতা।সার্বিক পরিস্থিতিতে আলবেনিয়ার এক আন্দোলনকারী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা পরিবর্তন চান বলেই আজ রাজপথে নেমেছেন এবং তাদের লক্ষ্য বিপ্লব ও নতুন সরকার। তারা আলোচনার জন্য নয়, যত দ্রুত সম্ভব নতুন সরকার গঠনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। ফলস্বরূপ শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার সংকট ইউরোপের তরুণদের এখন এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗