নোয়াখালী: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ায় চার বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেফতার যুবককে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার যবকের নাম সোহরাব উদ্দিন (২০)। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব খোন্দকার সোহেল ভিকটিমের বাবার পকেটে তিন হাজার টাকা ঢুকিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে ভিকটিমের বাবা ওই টাকা ফিরিয়ে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোন্দকার সোহেল বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক বৈঠক হওয়ার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছিলেন। এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।
হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাবকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
