পড়াশোনার চাপে শিশুরা কি অবসর পাচ্ছে?
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, খেলার মাধ্যমে শিশুরা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে, নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
Published : 12 Oct 2026, 03:20 PM
Updated : 12 Oct 2026, 02:27 PM
স্কুল, বাড়ির পড়া, কোচিং আর পরীক্ষার প্রস্তুতি। অনেক শিশুর দিনের বড় একটা অংশ কাটে এসব কাজে। পড়াশোনা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর বাইরেও শিশুর নিজের জন্য কিছু সময় থাকা দরকার। খেলাধুলা, গল্পের বই পড়া, ছবি আঁকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও বেড়ে ওঠার অংশ।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর বিশ্রাম, অবসর, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ করার সুযোগ পাওয়াও শিশুর অধিকার।
খেলাধুলা শুধু আনন্দের জন্য নয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, খেলার মাধ্যমে শিশুরা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে, নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে পারে। কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশেও খেলার ভূমিকা রয়েছে।
শারীরিকভাবেও সক্রিয় থাকা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে বেশি তীব্রতার শারীরিক কর্মকাণ্ড করা উচিত। এর মধ্যে দৌড়ানো, সাইকেল চালানো ও খেলাধুলা থাকতে পারে।
তবে পড়াশোনার বাইরে সময় কাটানো মানেই শুধু মাঠে খেলতে যাওয়া নয়। কেউ গান গাইতে ভালোবাসে, কেউ বই পড়ে, কেউ বাগান করে, আবার কেউ ছবি আঁকে। শিশুর আগ্রহ অনুযায়ী এসব কাজের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের সময়ও দরকার।
আমি চাই, আমাদের অভিভাবকরা যেন বুঝতে পারেন ভালো ফল করাই শিশুর একমাত্র লক্ষ্য নয়। তার আনন্দ, আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠাও জরুরি। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কাজের জন্যেও থাকা দরকার।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: কিশোরগঞ্জ।
