নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্লাস্টের যোগাযোগ বিভাগ থেকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় একটি দোকানে চা পান করে বের হওয়ার সময় দুই যুবক সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। তিনি অনলাইন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।
ব্লাস্ট জানায়, এর আগেও ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক আলিফ। তার ওপর আগের হামলার ঘটনা এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা-ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন, তথ্য সংগ্রহ এবং সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার মতো অপরাধের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্লাস্ট আরও বলেছে, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য যে কারণেই কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, প্রতিটি মানুষের জীবনের অধিকার সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি সুরক্ষা প্রতিষ্ঠা এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে ব্লাস্ট।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অপূর্বকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৭ অক্টোবর দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ১৬ অক্টোবর নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন।
এফএইচ/এমএমকে
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
