প্রকাশিত: ০৯:২২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ০৯:২৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ভোলা ভোলা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
ভোলা সদর হাসপাতাল
দ্বীপজেলা ভোলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থায়ী ব্লাড ব্যাংকের অভাব। জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্লাড ব্যাংক কিংবা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচাত গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন স্বজনেরা। ফলে সময়মতো প্রয়োজনীয় রক্তের সংস্থান না হওয়ায় অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও মুমূর্ষু রোগী, জটিল অস্ত্রোপচারের প্রসূতি মা এবং নিয়মিত রক্ত প্রয়োজন হওয়া থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ভোলায় প্রতিদিন রক্তের চাহিদা থাকে। অথচ, সরকারিভাবে এখানে গড়ে ওঠেনি আধুনিক কোনো রক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জীবন বাঁচাতে ভরসা করতে হয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, ফেসবুকভিত্তিক ব্লাড ডোনার গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত রক্তদাতাদের ওপর। স্থানীয় যুবকরা রক্তদানে এগিয়ে এলেও চাহিদার তুলনায় এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বেচ্ছাসেবীনির্ভর ব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত হয় না।
ভোলার বাসিন্দারা জানান, চারদিকে নদীবেষ্টিত ভোলার মতো একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপজেলা থেকে জরুরি প্রয়োজনে অন্য কোনো জেলায় গিয়ে রক্তসংগ্রহ করে আনা প্রায় অসম্ভব। যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো রক্ত পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যার চরম মূল্য দিতে হয় রোগীদের। এ কারণে জেলাটিতে দ্রুত একটি আধুনিক ও স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, “দ্বীপজেলা হিসেবে ভোলায় স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ ব্লাড ব্যাংক থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে এখনো ব্লাড ব্যাংক চালু করা সম্ভব হয়নি। জনবল পদায়ন ও ব্লাড ব্যাংক অনুমোদনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ছি।”
