ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ধর্ম। পবিত্রতা অর্জন ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। আর পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো অজু। অজু শব্দের অর্থ সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা। ইসলামের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট নিয়মে শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করাকে অজু বলা হয়। নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন ইবাদতের জন্য অজুর গুরুত্ব অপরিসীম। অজু শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করে না, বরং একজন মুমিনের অন্তরে পবিত্রতা, প্রশান্তি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের অনুভূতিও জাগ্রত করে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে অজুর গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত অজুর ফরজ, সুন্নাত, মুস্তাহাব, সঠিক পদ্ধতি ও অজু ভঙ্গের কারণগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং যথাযথভাবে অজু করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
অজু মানে হলো পবিত্রতা অর্জন। নামাজ পড়ার জন্য অজু আবশ্যক। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন। অজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।
অজু ভেঙে গেলে আবার নতুন করে অজু করতে হয়। অজু করার পর যদি কোনো ব্যক্তির সন্দেহ হয় যে তার অজু ভেঙে গেছে কিনা, তাহলে তার করণীয় কী? এক্ষেত্রে দেখতে হবে, যদি বাস্তবেই অজু ভঙের মতো কোনো কারণ না ঘটে তাহলে শুধু সন্দেহ, ধারণা বা ওয়াসওয়াসার কারণে অজু নষ্ট হবে না। ইসলামের মূলনীতি হলো, ‘নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।’
রাসুল (সা.) এমন ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন, যে নামাজে মনে করে তার বায়ু বের হয়েছে, সে নামাজ ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৭)
অর্থাৎ শুধু অনুভূতি, সন্দেহ, চাপ বা ধারণার কারণে অজু ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে না। তাই যদি অজুর পর কারো শুধু মনে হয় যে বায়ুর চাপ আসছে, কিন্তু বায়ু বের হওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিতভাবে বুঝা বা জানা না যায়, তাহলে তার অজু ভাঙেনি এবং তিনি অজু অবস্থাতেই আছেন বলে গণ্য হবেন এবং সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
তবে যদি বাস্তবেই এমন অবস্থা হয় যে প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তে বায়ু বের হয় এবং এত ঘনঘন হয় যে সম্পূর্ণ একটি ওয়াক্তের মধ্যে অজু করে ফরজ নামাজ পড়ার মতো সময়ও পাওয়া যায় না, তাহলে তিনি মাযূর (শরয়ীভাবে ওযরগ্রস্ত বা অসুস্থ) ব্যক্তির হুকুমে গণ্য হতে পারেন।
মাযূর ব্যক্তির বিধান হলো— ১. প্রত্যেক ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর একবার অজু করবেন। ২. সেই অজু দিয়ে ওই ওয়াক্তে ফরজ, সুন্নত, নফল—সব নামাজ পড়তে পারবেন। ৩. মাঝখানে বায়ু বের হলেও অজু ভাঙবে না। ৪. পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হলে নতুন অজু করতে হবে। তবে কাউকে মাযূর মাযূর (শরয়ীভাবে ওযরগ্রস্ত বা অসুস্থ) সাব্যস্ত করার জন্য বিস্তারিত অবস্থা জানা প্রয়োজন। কারণ শুধু কষ্ট হওয়া বা মাঝে মাঝে বায়ু বের হওয়ার মাধ্যমে মাযূর হওয়া প্রমাণিত হয় না।
লেখক : আলেম ও গণমাধ্যমকর্মী
