দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর কলকাতায় প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলকাতার বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
প্রায় ১৪ মাস ধরে বিরল রক্তের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। ষষ্ঠীর দিন মূত্রনালির সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অবস্থার অবনতি হয়। এতেদিন কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় রাখা হয়েছিল শিল্পীকে।
১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর (বর্তমান গোপালগঞ্জ) জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামে যোগেন চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের পর বাবার সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। এখানেই শিল্পশিক্ষা, পরে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেন।
যোগেন চৌধুরীর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং মা ছিলেন আলপনা আঁকায় দক্ষ। পারিবারিক এই শিল্পচর্চাই ছোটবেলা থেকে যোগেনের মধ্যে ছবি আঁকার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে।
যোগেন চৌধুরী ১৯৫৫ সালে কলকাতার সরকারি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন। এরপর হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে শিল্পশিক্ষার জন্য যান যোগেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র এঁকে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি নিজস্ব ঘরানা তো ছিলই। ভারতীয় শিল্প আন্দোলন ও ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায় তাঁর আঁকায়।
২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন যোগেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন এই গুণী শিল্পী।
১৯৮৭ সালে যোগেন চৌধুরী শান্তিনিকেতনের কলাভবনে চিত্রকলার অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর অসংখ্য চিত্রকর্ম ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিনি সমসাময়িক শিল্পকলা নিয়ে ব্যাপকভাবে লিখেছেন। তিনি বেশ কয়েকটি প্রদর্শনীতে বিচারক হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন।
