Kazi Hafizur Rahaman নিজস্ব প্রতিবেদক
পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ রাহুল
নিখোঁজ শিশু রাহুলের বাবার নাম রহিত। সে নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী এলাকার মিতালী সংঘ মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে রাহুল মিতালী সংঘের ঘাটে পানি আনতে যায়। এ সময় সেখানে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে দুপুর ২টার দিকে তার খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এরপর থেকে শিশুটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পেতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন স্বজনেরা। স্থানীয়ভাবেও তার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে রাহুল নিখোঁজ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাহুলের সন্ধান মেলেনি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশু নিখোঁজের ঘটনা কি কোনো অশনিসংকেত?
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিভিন্ন খবর সামনে আসায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব ঘটনা প্রকৃতপক্ষে বেড়েছে কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
সচেতন মহলের মতে, শিশু নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা, পথ হারিয়ে ফেলা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই অনুমাননির্ভর বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান এবং সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।
তাঁদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের একা ঘাট, পুকুর, নদীর পাড় কিংবা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে যেতে না দেওয়া এবং অপরিচিত কারও সঙ্গে কোথাও না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।
অভিভাবক ও সমাজের প্রতি সচেতনতামূলক বার্তা
শিশুর নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশু কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে এবং কখন বাড়ি ফিরবে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের খোঁজ রাখা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের বিপদ বুঝতে শেখানো এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বড়দের সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করতে হবে।
কোনো শিশু নিখোঁজ হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে। শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, পরনের পোশাক ও সর্বশেষ কোথায় দেখা গেছে—এসব তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের সময়ও তা যাচাই করা জরুরি, যাতে গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে।
রাহুলের সন্ধানে সহযোগিতার আহ্বান
সাত বছরের শিশু রাহুলের সন্ধান পেতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবার সহযোগিতা কাম্য। কেউ তাকে দেখে থাকলে কিংবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য জানলে দ্রুত তার পরিবার অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
একটি শিশুর নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো সমাজের প্রত্যাশা। তাই রাহুলের সন্ধানে সবাইকে মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
