Published : 21 Oct 2026, 01:50 PM
Updated : 21 Oct 2026, 01:33 PM
স্কুলজীবনের শেষ দিনটি এতটা স্মরণীয় হবে তা আগে বুঝতে পারিনি। সকালে ভেবেছিলাম বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করব, শিক্ষকদের সঙ্গে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাব। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে ততই অনুভব করেছি আজ আমার জীবনের সুন্দর একটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে।
তৃতীয় শ্রেণিতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। দেখতে দেখতে কেটে গেছে সাতটি বছর। সেদিন ক্লাসে হাজিরা দিতে গিয়ে হঠাৎ মনে হল আর কখনো এভাবে নিজের নাম বা রোল নম্বর শুনে ‘উপস্থিত’ বলা হবে না। পড়া হবে না চেনা স্কুলের পোশাকও। প্রতিদিনের এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই বিদায়ের দিনে সবচেয়ে মূল্যবান মনে হচ্ছিল।
সেদিনের প্রাতঃসমাবেশ ছিল বিশেষ কিছু। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা পুরো সমাবেশ পরিচালনা করেছিলাম। আর শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব ছিল আমার।
যে সমাবেশে এত দিন অন্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে শপথ পাঠ করেছি শেষদিনে সেখানে আমিই সবাইকে শপথ পাঠ করাচ্ছিলাম। শপথের প্রতিটি শব্দ উচ্চারণের সময় মনে পড়ছিল সাত বছরের স্মৃতি।
একসময় এই বিদ্যালয়ে ছোট্ট শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছিলাম আর আজ শেষ সমাবেশের দায়িত্ব পালন করছি। মুহূর্তটি ছিল গর্বের, ভালোবাসার ও কষ্টের। কণ্ঠে দৃঢ়তা রাখার চেষ্টা করলেও ভেতরে কেমন যেন কাঁপন অনুভব করছিলাম।
পরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে কেক কেটে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি, গল্প আর আনন্দে সময় কেটেছে। কিন্তু মনের এক কোণে বিদায়ের কষ্ট ছিলই। জানতাম, এরপর আর প্রতিদিন একসঙ্গে স্কুলে আসা হবে না।
এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার শৈশব, বন্ধুত্ব, শিক্ষকদের ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতি। এখানে শুধু পড়াশোনা নয় শিখেছি অনেক কিছু, বড় হয়েছি ধীরে ধীরে। তাই বিদায়টা শুধু একটি বিদ্যালয় থেকে নয়, নিজের জীবনের পরিচিত একটি অধ্যায় থেকেও।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি এসেছিল দিনের শেষে। শ্রেণিশিক্ষক যখন হাজিরা খাতায় ‘দি এন্ড’ লিখছিলেন তখন মনে হচ্ছিল সত্যিই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল!
সামনে নতুন পথ, নতুন স্বপ্ন। হয়ত একদিন সবাই নিজ নিজ জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ব, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে কম। তবু স্কুলের সেই চেনা শ্রেণিকক্ষ, প্রাতঃসমাবেশ, বন্ধুদের দুষ্টুমি আর শিক্ষকদের শাসন স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৫। জেলা: বাগেরহাট।
