উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল রবিবার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের অধীনে এই ঘোষণা দেয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। এর ফলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
আসিফ আলী জারদারি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেছেন। একই দিন তার আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শাহবাজ শরিফের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার’ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা চলাকালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক সরকারের কিছু বা সব কার্যক্রমের দায়িত্ব নিতে পারে। তবে জরুরি অবস্থা জারির পর প্রদেশটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
ঘোষণার কিছুক্ষণ পর পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতা জুনায়েদ আকবর জানান, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে প্রদেশটিতে দলের সভাপতির সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিটিআই। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তার পরও সারাদেশে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
লংমার্চটি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর আয়োজনের কথা ছিল। তবে সরকার ও পিটিআই নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে তা পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, লংমার্চ রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পিটিআইয়ের বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে পৌঁছানো ঠেকাতে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করতে পণ্য পরিবহনের কনটেইনার দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের ফলে কেবল ‘আরও রক্তপাত, অস্থিতিশীলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি’ বাড়বে। তিনি বলেন, আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে, তারা কখনোই আলোচনা করতে চায়নি।
