ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রায় এক বছর ধরে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রটি নিয়মিত খোলা হয় না। কোনো সপ্তাহে একদিন, আবার কোনো সপ্তাহে দুদিন খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে হতাশ হয়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জানালা, বেসিনসহ ভেতরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় ভেতরের পরিবেশও অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের কক্ষগুলোতে কুকুর-বিড়াল ঘুমায়। ফলে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উপযোগী পরিবেশও নেই সেখানে।
স্থানীয় কৃষক বাছির জানান, প্রায় এক বছর ধরে কেন্দ্রটি নিয়মিত চালু নেই। অফিসের চাবি তাঁর কাছেই থাকে। তিনি চাবি দিয়ে কেন্দ্রটি খুলে ভেতরের অবস্থা দেখান। এ সময় কেন্দ্রের জানালা, বেসিন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ইশরাত জাহান পিংকি বলেন, কেন্দ্রটির পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক। এখানে এসে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না। কেন্দ্রটির পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু রাখার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা ফিল্ড অফিসার আবু নেছার আবেদ জানান, কেন্দ্রটিতে মাসিক ও পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাড়েরা ইউনিয়ন থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা বেগম সপ্তাহে দুই দিন—বুধবার ও রোববার এখানে দায়িত্ব পালন করতে আসেন। তিনি আরও জানান, চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে নতুন করে বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) চিকিৎসক শিরিন আক্তার জানান, কেন্দ্রটিতে কোনো আয়া ও নাইটগার্ড নেই। একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা সপ্তাহে দুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত দুদিনেও সব সময় কেন্দ্রটি খোলা থাকে না। কোনো সপ্তাহে একদিন, আবার কোনো সপ্তাহে দুদিন খোলা হয়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যান। বিশেষ করে সাধারণ অসুস্থতা, নারী ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনাসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব কেন্দ্রে নিয়মিত সেবা পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো অসুস্থতার জন্য দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় না। কিন্তু মেহারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় সেই সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রটির অবকাঠামো মেরামত, চুরি যাওয়া সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে কেন্দ্রটি আবারও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য স্থানে পরিণত হবে।
