নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে ফারজানাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুল একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফারজানার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। ক্রমাগত নির্যাতনের মুখে গত বছরের ডিসেম্বরে ফারজানা বাপের বাড়িতে চলে যান এবং স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার পর মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও বোনের সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল।’
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্বজনদের আনা অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
