সুন্দরবনের ভোলা নদী থেকে ২৩০ টন কয়লাবোঝাই একটি কার্গোসহ নয়জনকে আটক করেছে বন বিভাগ। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘হাসান ভান্ডারী’ নামের কার্গোটি জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মো. তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), মো. সুমন তালুকদার (২১), মো. নূর নবী হোসেন (৪২), মো. এনায়েত করিম (৪০), মো. ওবায়দুল (২২), মো. মামুন (২২), মো. লায়েক মিয়া (৫০) ও মো. কবির হোসেন (৪৫)। তারা বাগেরহাটের মোংলা ও মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোংলার জয়মনি এলাকা থেকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পিরোজপুরের পাথরঘাটা ও আমুয়া এলাকার দিকে যাওয়ার পথে কার্গোটিকে আটক করা হয়। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে কার্গোটি আটক করে। এ সময় কার্গোতে ২৩০ টন কয়লা পাওয়া যায়। কার্গোর শ্রমিক-কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাড়ায় চালিত কার্গোটি পাথরঘাটার আমুয়া এলাকায় যাচ্ছিল। তবে বহন করা কয়লার ক্রয়সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কার্গোতে থাকা নয়জনকে আটক করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। জব্দ কয়লা ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জব্দ করা ২৩০ টন কয়লার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। মোংলার জয়মনি এলাকায় নোঙর করা একটি মাদার ভেসেল থেকে কয়লাগুলো অবৈধভাবে খালাস করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কয়লার উৎস ও খালাসের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বন বিভাগ।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ‘বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি তদন্ত করে কয়লার প্রকৃত উৎস, পরিবহনের বৈধতা এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
