October 15, 2026, 5:49 pm
ভারত বিগত দিনের চিন্তা-চেতনা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের বন্ধু হবে, আশা প্রতিমন্ত্রীর
Reporter Name
- Update Time : Thursday, October 15, 2026
- 0 Time View
জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ভারত তাদের পুরোনো মানসিকতা পরিহার করে প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কুঠিপাড়া মহল্লায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে এবং বর্তমান সরকার এই সময়সীমাকে সামনে রেখেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের অন্তত ৩০ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন থাকলেও অতীতে অনেক সময় মাসে মাত্র ৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়া গেছে। বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের প্রযুক্তিবিদরা যৌথভাবে পানির প্রবাহ পরিমাপের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পানির এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত জুন মাসে কলকাতায় এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরও একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফারাক্কা চুক্তির ক্ষেত্রে পানির নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার বিষয়ে জোরালো তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার এই বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত বার্তার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
অতীতে পদ্মার পানি ব্যবস্থাপনায় ভারতের বিভিন্ন ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বন্ধুসুলভ ও আন্তরিক মানসিকতার পরিচয় দিয়ে চুক্তি নবায়ন করবে এবং অতীতের সব সংশয়ের যথাযথ ইতিবাচক সমাধান করবে। নদী পরিদর্শনের এই সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


