কিশোরগঞ্জের হাওড়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় তিন উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে । হাওড় থেকে শহরে যেতে পথে পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ ।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে এবার বর্ষার পানি নেমে গেছে সেপ্টেম্বর মাসের শেষে। ১ অক্টোবর থেকে ডুবো সড়কে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে ফেরি না থাকায় কয়েকবার যানবাহন বদল করে গন্তব্যে যাচ্ছেন তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। এখনো ফেরি চালু না হওয়ায় যাতায়তে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাওড়বাসী। দ্রুত ফেরিঘাট মেরামত ও ফেরি চালুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জের হাওড়বেষ্টিত অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ বছরে ছয় মাস জেলা শহরে সড়কপথে যাতায়াত করেন। এজন্য ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি মিঠামইন-করিমগঞ্জ ও ইটনা-করিমগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন নদীতে পাঁচটি ও ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর সড়কে একটি ফেরি চালু করে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মিঠামইন-করিমগঞ্জ সড়কের ঘোড়াউত্রা নদীর মিঠামইন সদরে শান্তিপুর ঘাট ও করিমগঞ্জের সুতারপাড়া ইউনিয়নের বাউলাই নদীর বালিখলা ঘাটে দুটি ফেরি চালু করা হয়।
ইটনা-করিমগঞ্জ সড়কের ইটনা সদর ইউনিয়নের ধনু নদীর বলদা ঘাট ও ইটনা বড়িবাড়ি ইউনিয়নের ধনু নদীর শাখায় বড়িবাড়ি ঘাট, করিমগঞ্জের চামড়া বন্দরের বাউলাই নদীতে তিনটি এবং অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর সড়কের ঘোড়াউত্রা নদীর পাটুলী ঘাটে একটিসহ তিনটি ডুবো সড়কে ছয়টি ফেরির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ বছরের ছয়-সাত মাস শহরে চলাচল করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, মিঠামইন-করিমগঞ্জ সড়কে মানুষ ভিভাটেক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল, গণপরিবহন দুই-তিনবার পাল্টে শহর অভিমুখে যাতায়াত করছেন। নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। এতে নারী ও শিশু, বিশেষ করে প্রসূতি, রোগী ও বয়স্কদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন তিন সড়কে হাওড়াঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ এভাবেই জেলা শহরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন।
যাত্রীরা জানান, ফেরিঘাটে নৌকার মাঝিদের ইচ্ছামতো চলে পারাপার। ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহনে বাধা দিলে নাজেহাল হতে হয় তাদের। প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হয় না। সময়মতো সরকারি ফেরি চলাচল না করায় গুদারায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। নারী ও শিশুসহ বাধ্য হয়ে আতঙ্ক নিয়ে গুদারায় পাড়ি দিতে হয় বিশাল নদী। নৌকায় নেই নিরাপত্তা বয়া। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার মোবারক হোসেন বলেন, হাওড়ের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছুদিন হলো ডুবো সড়কে মানুষ চলাচল করছে। ফেরির অভাবে এখন ভেঙে ভেঙে শহরে যাচ্ছি, ঝুঁকি নিয়ে গোদারায় উঠছি। দ্রুত ফেরি চালু করে ভোগান্তি কমানো দরকার।
সানিয়া আক্তার বলেন, হাওড়ের দুর্ভোগ শেষ হওয়ার নয়। বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে অটোরিকশা চললেও এখন চরম ভোগান্তি নিয়ে চলতে হচ্ছে। নৌকাগুলো অধিক যাত্রীসংখ্যক নিয়ে চলাচল করছে। ভয়ে থাকি কখন কোন বিপদ হয়। দ্রুত ফেরি চালু করলে আমরা উপকৃত হব।
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নই। তবে দ্রুত ফেরি চালু করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, প্রতিবছর নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে ফেরি চালু করা হয়। এবার হাওড়ের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সময় এগিয়ে আসবে। ফেরিঘাট মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত ফেরিঘাট মেরামত করে ফেরি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
