জনপ্রশাসনের ধীরগতির প্রকল্প অনুসন্ধানের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন
বৈঠকে ‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারি কাজে অসহযোগিতা বা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সরকারের ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেয় কমিটি।
সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা কমিটির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি গোপন না করে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নন- তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। নাগরিকের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এলিস/সালমান/
আরও পড়ুন
পর্যটকদের জন্য সুখবর, এবার কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেসের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে বর্ধিত রুটে ট্রেনটির নিয়মিত চলাচল শুরু হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এর আগে নরসিংদী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, কিশোরগঞ্জ জেলার যাত্রীদের রেলে কক্সবাজার যেতে হলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম যেতে হত। সেখান থেকে ট্রেন পরিবর্তন করে কক্সবাজার যেতে হত। এখন তারা নিজ নিজ জেলার রেল স্টেশন থেকেই মহানগর এক্সপ্রেসের সরাসরি পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন
রেলওয়ের অপারেশন বিভাগের বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবে। ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ছেড়ে সকাল ছয়টায় কক্সবাজারে গিয়ে পৌঁছাবে। অন্যদিকে ফিরতি পথে ট্রেনটি কক্সবাজার থেকে সকাল নয়টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা সাড় ছটায়। সব মিলিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত পুরো যাত্রায় সময় লাগবে সাড়ে ৯ ঘণ্টা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারমুখী মহানগর এক্সপ্রেসে মোট ১৬টি কোচ থাকবে, আসনসংখ্যা নির্ধারিত করা হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৩৬টি। আন্তঃনগর এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে রবিবার।
আরও পড়ুন
এখন মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসার পর মোট ১২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে থাকে। তবে রুট সম্প্রসারণের পর নতুন সূচিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতিটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে আগের নিয়মেই যাত্রাবিরতি বহাল থাকবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধনের পর থেকেই এই রুটে যাত্রীদের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে চালু হওয়া চার জোড়া ট্রেনের পর পঞ্চম ট্রেন হিসেবে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন নির্ধারিত স্টেশনে যাত্রাবিরতি বজায় রেখে ট্রেনটি সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রী পরিবহন করবে এবং এর চলাচলের জন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিপূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এখন ঢাকা থেকে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ট্রেন কক্সবাজার রুটে নিয়মিত চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়া মধ্যবর্তী আর কোনো স্টেশনে থামে না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী প্রবাল এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেস মধ্যবর্তী ছোট ছোট স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। মহানগর এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় মধ্যবর্তী বড় জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার ভ্রমণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
আরও পড়ুন
এমপিদের প্রশিক্ষণ ও ই-পার্লামেন্ট চালুতে সহযোগিতা দেবে ইউএনডিপি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস। ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রশিক্ষণ, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম, লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়ন ও ই-পার্লামেন্ট চালুর ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। অন্যদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সংস্থাটির সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস।
বৈঠকগুলোতে সংসদীয় কার্যক্রমের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রোহিঙ্গাসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউএনডিপি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সংসদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের কারণে দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে।’ এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ইউএনডিপির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন
জবাবে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনডিপির সম্পর্ক আরও বিকশিত হয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও পরিচিতিমূলক কর্মসূচি আয়োজন, সংসদীয় কমিটিগুলোকে সহায়তা, লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়ন এবং ই-পার্লামেন্ট চালুর ক্ষেত্রে সংস্থাটি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত করতে আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। এ সময় সরকারি নিয়োগে দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন এবং সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশিক্ষণপদ্ধতি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ দেওয়া হয়।
বৈঠকগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি, নারী সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম, জ্বালানি ইস্যু এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়।
এলিস/সালমান/
আরও পড়ুন
স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবন এবং তা বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে এই কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
শুরুতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন
বৈঠকের শুরুতে সভাপতি স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সভায় কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।
আরও পড়ুন
এলিস/এএফ
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকলেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত ৭ বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মোহাম্মদ আলী/সালমান/
