শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল, সেই চাওয়ার অন্তত কিছুটা পূরণ করলেন মিষ্টি-আলপনারা।
বেগম খালেদা জিয়া নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফির (এশিয়া জোন-২) ফাইনালে তাই বাংলাদেশ হারলেও রাউন্ড রবিন লিগের মতো বিধ্বস্ত হলো না। পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে ২৮-১৬ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লিগের দেখায় ব্যবধান ছিল ৪৭-১৩ গোল।
বাংলাদেশ এদিন শুরু থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে থাকে। তবে, রাউন্ড রবিন লিগে অপরাজিত ভারত ঠিকই ১৪-৯ গোলে এগিয়ে থেকে যায় বিরতিতে।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ভারতের গোলকিপার দিক্সা কুমারীর দৃঢ়তায় প্রত্যাশিত গোল পাননি সাকিবা-নিশিরা। বাংলাদেশের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন দিক্সা কুমারী। টুর্নামেন্ট সেরার খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের ভাওয়ানা শর্মা।
সব মিলিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে দুটি করে জয় ও হার নিয়ে আসর শেষ করল বাংলাদেশ। দুটি হারই ভারতের বিপক্ষে। জয় দুটি এসেছিল নেপাল ও মালদ্বীপের বিপক্ষে।
ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও বাংলাদেশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মনে হচ্ছে সঠিক পথেই আছে তার দল। “টুর্নামেন্ট নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সঠিক পথেই আমরা এগোচ্ছি। প্রথমত, আমাদের শুধু হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হলেই চলবে না, সামগ্রিকভাবে অ্যাথলেট হতে হবে।
“হ্যান্ডবল খেলার জন্য যতটুকু ফিট থাকা দরকার, ততটুকু ফিটনেস থাকতে হবে। এরপর দ্বিতীয় দিকটি হলো রক্ষণভাগ। ব্যক্তিগত টেকনিক ও ট্যাকটিকসের দিক থেকে রক্ষণে আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। তাই মূল মনোযোগটা থাকবে শক্তি ও রক্ষণভাগের ওপর।” ফাইনালে নষ্ট হওয়া গোলের সুযোগ নিয়ে কাউকে কাঠগড়ায় তুললেন না আলোনসো। এই স্প্যানিশ কোচ বরং দলকে আগলে রাখলেন। প্রশংসা করলেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার দিক্সা কুমারীর।
“আমার কাছে এটিকে কোনো বড় সমস্যা মনে হয়নি। গত ম্যাচে আমাদের এই সমস্যাটি ছিল না। আজকের ম্যাচে ভারতের গোলকিপার খুবই ভালো খেলেছে। মাঝে মাঝে এমনটা হয়েই থাকে। আমাদের সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে, তবে আজকের ম্যাচটি ভারতের গোলকিপারের জন্য দারুণ ছিল। তাই এখানে আমাদের বিশেষ কিছু করার ছিল না।
“অবশ্যই ম্যাচ খেলা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমার মতে অনুশীলনের গুরুত্ব আরও বেশি। আমরা যখন ক্লাবে বা নিজ নিজ দলের সঙ্গে থাকি, তখনও কঠোর অনুশীলন করতে হবে; শুধু জাতীয় দলের ক্যাম্পে এলেই যে কঠোর অনুশীলন করব তা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু ক্যাম্পের সময় নয়, প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া।”
ডিসি/ আপ্র/২২/১০/২০২৬
