বরিশালের মুলাদীতে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়া ও জাটকা ইলিশ নিধন থেকে বিরত থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষক মো. শুক্কুর আলী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন বাবুবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১০-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার সকালে এসআরবি-৮-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হাসান মিঠু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নিহত শুক্কুর আলী বরিশালের মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চর ধলেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি একজন কৃষক। স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত মৎস্য অভিযান চলাকালে জাটকা ইলিশ নিধন থেকে বিরত থাকা এবং কৃষ্ণপুর এলাকায় জুয়া খেলায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কৃষ্ণপুর এলাকার একটি দোকানে চা পান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শুক্কুর আলী। পথে মিরাজের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা এজাহারনামীয় আসামিরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মুলাদী থানাধীন কাজিরচর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে ১৫ অক্টোবর ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মুলাদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে এসআরবি-৮-এর গোয়েন্দা দলের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ ফরাজীকে ঢাকার বাবুবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এমএ
