একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের টেকসই ব্যবহার, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ঠোটা এলাকায় এক আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কামরাঙ্গীরচর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ কার্যক্রমটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত “ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড সামুদ্রিক আবর্জনা প্রতিরোধ” (Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh) প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন হয়। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর কারিগরি সহায়তা এবং রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আলোচনা সভার প্রথম পর্বে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ সময় ইউনিডো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিঙ্গেল-ইউজ বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নদী-নালা, নর্দমা ও জলাশয়কে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং উৎসেই বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামরাঙ্গীরচর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল মো. জাকির হোসেন কবির। তিনি পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন রাখার ফলে সৃষ্ট মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অপ্রয়োজনে প্লাস্টিক ব্যবহার ত্যাগ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডি ক্লিন—ঢাকা দক্ষিণের জোনাল সমন্বয়ক মাহি ইসলাম পলক।
আলোচনা সভা শেষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কামরাঙ্গীরচর ঠোটা এলাকার স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানি ও পথচারীদের যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলার জন্য সচেতন করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইউনিডোর কারিগরি সহায়তায় বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন কামরাঙ্গীরচর ঠোটা, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে বড় ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তন ও দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে।
