Published on
:
2 min read
এই সময়, ময়নাগুড়ি: ধনদেবী লক্ষ্মীর আরাধনাকে ঘিরে মিলনমেলার চেহারা নেয় ময়নাগুড়ির উত্তর খাগড়াবাড়ি গ্রামের চৌধুরী বাড়ি। বংশ পরম্পরায় চলে আসা দেড়শো বছরের প্রাচীন লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মাতেন পরিবারের সদস্য থেকে গ্রামবাসী। গত বছর পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর কারণে বন্ধ ছিল পুজো। তবে চলতি বছর সমস্ত রীতি ও পরম্পরা মেনে ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে ময়নাগুড়ি ব্লকের এই প্রত্যন্ত গ্রামে।
চৌধুরী পরিবারের এক সদস্যা স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে সুদূর বাংলাদেশে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। এমনই দাবি পরিবারের সদস্যদের। পরবর্তীতে চৌধুরী বংশের উত্তরসূরিরা বাংলাদেশ থেকে বাংলায় চলে আসার পরে উত্তর খাগড়াবাড়ি গ্রামে নতুন করে শুরু হয় পুজো। স্থান পরিবর্তন হলেও দেড়শো বছরের এই পুজোর রীতিতে আজও কোনও বদল আসেনি। পরিবারের প্রয়াত প্রবীণ সদস্যা বাতাসী চৌধুরীর হাত ধরেই খাগড়াবাড়ি গ্রামে পুজোর সূচনা হয়। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি পুজো শুরু করেছিলেন বলে পরিবারের বিশ্বাস। তাঁর পুত্র জয়হরি চৌধুরী বেশ কয়েক বছর পুজোর দায়িত্ব সামলেছেন। গত বছর জয়হরির মৃত্যুর পরে এখন সেই দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর পুত্র দীপক চৌধুরী।
এক নজরে
স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাংলাদেশে সূচনা হয়েছিল চৌধুরী পরিবারের পুজো
পুজোর বৈশিষ্ট্য বাসি লক্ষ্মীপুজোর দিন দেবীর পাতে 'রাজভোগ' দেওয়া হয়
আলপনা আঁকা মাটির সরায় প্রথমে লক্ষ্মীকে বরণ করা হয়
পুজো শেষে পরিবারের সদস্যরা অঞ্জলি দেন
পুজোর পরেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না
এখানে পুজোর রীতি বেশ স্বতন্ত্র। দীপকের মা যুগলবালা চৌধুরী বলেন, ‘অন্যান্য পুজোর থেকে মায়ের পুজোর রীতি কিছুটা আলাদা। আলপনা আঁকা মাটির সরায় প্রথমে লক্ষ্মীকে বরণ করা হয়। সেখানে ধান, চাল, গম, সরষে-সহ পাঁচ রকমের শস্য রাখা থাকে। দেবীমূর্তির সামনে বরণডালা দিয়ে সেই পাত্র ঢেকে রাখা হয় পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত।’ কোজাগরী পূর্ণিমাতেই আয়োজনের সমাপ্তি নয়। ‘বাসি বিয়ে’র মতো এ বারও সোমবার থাকছে ‘বাসি লক্ষ্মীপুজো’। সে দিন দেবীর জন্য থাকে রাজভোগের আয়োজন। মিষ্টান্ন, পায়েস, লুচি ও তরকারি থালায় সাজিয়ে নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে পরিবারের সদস্যরা অঞ্জলি দেন। এরপর শুরু হয় যজ্ঞ, চলে দীর্ঘ সময়।
চৌধুরী বাড়ির আর একটি বিশেষত্ব, পুজোর পরেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। পরের বছর পুজোর আগে, দুর্গোৎসবের সময়ে বছরভর ঘরে থাকা লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ ভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধনের সাক্ষী এই পরিবার। শুধু পরিবার নয়, গ্রামবাসীও এই বাড়ির সদস্য হয়ে ওঠেন কোজাগরীতে। দীপক বলেন, ‘পুজোয় গোটা গ্রাম সামিল হয়। দু’দিনের পুজোকে ঘিরে বসে মেলা ও কবিগানের আসর। দূরদূরান্তের শিল্পীরা তাতে অংশ নেন। গ্রামবাসী-সহ পুজোয় আসা মানুষজনের আতিথেয়তায় কোনও খামতি রাখা হয় না। ভোগ-প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকে। সমস্তটাই চৌধুরী বাড়ির সদস্যরা নিজের হাতে করেন।’
FAQ
১. দেবীকে রাজভোগ নিবেদন করার বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য কী?
‘বাসি বিয়ে’র মতো ‘বাসি লক্ষ্মীপুজো’ করা হয় চৌধুরী বাড়িতে
২. দেবীকে দেওয়া 'রাজভোগ' সাধারণ ভোগের থেকে কীভাবে আলাদা?
শুধুমাত্র ‘বাসি লক্ষ্মীপুজো’ দিনই এই ভোগ দেওয়া হয়
৩. কোন তিথিতে দেবীর পাতে রাজভোগ উৎসর্গ করা হয়?
পুজোর পরের দিন 'রাজভোগ' দেওয়ার নিয়ম রয়েছে
৪. দেবীকে রাজভোগের সঙ্গে আর আর কি কি দেওয়া হয়?
রাজভোগের সঙ্গে মিষ্টান্ন, পায়েস, লুচি ও তরকারি দেওয়া হয়
