জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই আলোচনায় উঠে এসেছে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের ত্রুটিপূর্ণ টাইমিং। নির্ভুল ও দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্কোরবোর্ড অচল থাকা এবং নারী ইভেন্টে সময় প্রদর্শনে অসংগতির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রতিযোগিতার সময় পরিমাপের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। এর মধ্যেই পুরুষ বিভাগে ইমরানুর রহমান এবং নারী বিভাগে শিরিন আক্তার দ্রুততম অ্যাথলেটের খেতাব জিতেছেন।
জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে ইমরানুর রহমান প্রথমে ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্কোরবোর্ডে প্রদর্শিত হন। কয়েক মিনিট পর সেই সময় পরিবর্তন করে ১০.৫৩ সেকেন্ড দেখানো হয়। তবে সংশোধিত সময়ের পাশেও ‘প্রভিশনাল’ উল্লেখ থাকায় ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অন্যদিকে, পুরুষদের এই ইভেন্টে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড শুরুতে অচল ছিল।
শেষ পর্যন্ত ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইমরানুর রহমান। ১০.৬৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হন নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল। সেনাবাহিনীর তারেক রহমান ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে ইমরানুর বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাইমিংটা এ রকম হয়েছে। আরও কয়েকটি ইভেন্ট আছে, ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে।’ জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নিজের সময়ের তুলনায় এবারের টাইমিং কম হওয়ায় পরবর্তী ইভেন্টগুলোতে আরও ভালো করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন শিরিন আক্তার। ১২.২৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হন সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন। নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
এ নিয়ে ১৮তমবারের মতো দ্রুততম মানবী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন শিরিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক গ্রহণের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব ভালো লাগছে যে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক পেলাম। রাষ্ট্রপতি জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছেন। এতে বোঝা যায় তিনি খেলাধুলার প্রতি কতটুকু আন্তরিক।’
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী শিরিন আরও বলেন, ‘এসএ গেমস হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। ঠিকমতো অনুশীলন হলে আমি পদকের সম্ভাবনা দেখছি।’
প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, তরুণদের মাঠমুখী করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রীড়াবিদদের সাফল্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। অ্যাথলেটিক্সকে ‘ক্রীড়ার জননী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’
নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ দ্রুত চালুর কথা বলেন। পাশাপাশি বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়ার দীর্ঘমেয়াদী পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী। এরপর খেলোয়াড় ও বিচারকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেট ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার পর্দা উঠল।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
