Published on
:
2 min read
এই সময়, মালদা: এক সময় হাতির পিঠে চেপে চাঁচলের রাজা চণ্ডীরূপী সিংহবাহিনী মূর্তি রাজবাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপে নিয়ে যেতেন। সঙ্গে থাকত নানা ধরনের বাধ্যযন্ত্র। সেই পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপে সিংহবাহিনী দেবীই দুর্গা রূপে পূজিত হতেন। বিকল্প হিসেবে আরও একটি দুর্গামূর্তি তৈরি করা হতো। আজ অবশ্য রাজাও নেই, রাজত্বও উধাও। তবে প্রায় ৩৫০ বছরের চাঁচল রাজবাড়ির পুজোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চাঁচল রাজা শরৎচন্দ্র রায়চৌধুরীর কোনও বংশধর না-থাকায় রাজবাড়িটি বর্তমানে সরকারি ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। রাজবাড়ির একাংশে গড়ে উঠেছে চাঁচল মহকুমা আদালত। মহকুমা সদর কার্যালয় ও প্রশাসনিক অফিসও রয়েছে এখানে। অন্য অংশে রয়েছে চাঁচল কলেজ। এর বাইরে সামান্য কিছু রাজবাড়ির অংশ বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এখান থেকে দেড় কিলোমিটার দূরেই রয়েছে পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপ। প্রথা মেনে সপ্তমীর ১২ দিন আগে কৃষ্ণা নবমীতে সতীঘাট থেকে তামার কলসীতে জল ভরে ঘট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানেই পুজো হচ্ছে জগজ্জনীর। ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরোহিত অচিন্ত্য মিশ্র, সৌমিত্র চক্রবর্তী, টিটু বন্দোপাধ্যায়, সুরজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের মন্ত্রোচ্চারণে এ বছর সূচনা হয়েছে পুজোর। দশমীর সন্ধ্যায় দেবী বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিদিন বসবে চণ্ডীপাঠের আসর। কথিত আছে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে রাজা শরৎচন্দ্রের পূর্বপুরুষ মহানন্দার সতীঘাট থেকে অষ্টধাতুর মূর্তি নিয়ে এসে রাজবাড়ি লাগোয়া ঠাকুরবাড়িতে রেখেছিলেন। সেই সময়ে সিংহবাহিনীর অষ্টধাতুর সেই চণ্ডীমূর্তিকেই দেবীদুর্গা রূপে পুজোর ‘নির্দেশ’ পান চাঁচল রাজ পরিবারের সদস্যরা।
সেই থেকে প্রথা মেনে সপ্তমীর ভোরে ঠাকুরবাড়ি থেকে অষ্টধাতুর প্রতিমা শোভাযাত্রার সঙ্গে চণ্ডীমণ্ডপে নিয়ে গিয়ে মৃণ্ময়ী প্রতিমার পাশে বসানো হয়। রীতি মেনেই অষ্টমীর দিন কুমারী পুজো হয়ে আসছে। দশমীর সন্ধ্যায় বিসর্জনে রীতি মেনে দেবীকে আজও আলো দেখান স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। চাঁচল রাজবাড়ি ট্রাস্ট এস্টেটের সম্পাদক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, ‘এই পুজোর জন্য ট্রাস্ট থেকে ন’হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর বাইরে স্থানীয়রা সহযোগিতা করেন। তবে বাজেট যাই হোক, পুজোয় কোনও খামতি থাকে না।’
