ছাত্র বিক্ষোভের আগুনে উত্তপ্ত দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রসংসদ পুনর্বহালের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ চলছিল। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগান লেখা হয়। তারপরই বিতর্ক বাড়ে। বিক্ষোভের জেরে শনিবারও অশান্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে পড়ুয়াদের। জানা যাচ্ছে, সংঘর্ষের পরই বন্ধ হয়ে গিয়েছে পঠনপাঠন। আপাতত অনলাইন পদ্ধতিতে চলবে ক্লাস। এমনটাই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বেশ কিছু অস্থায়ী তাবু বানিয়েছিলেন। অনেক পড়ুয়া আবার অনশনেও বসেছিলেন। এদিন সকালে নিরাপত্তারক্ষীরা সেগুলি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয়। তখনই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভির অভিযোগ, শনিবার ক্যাম্পাসে দুই কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগঢ়ি ও ইমরান মাসুদ নেতা এসেছিলেন। তাঁরাই পড়ুয়াদের উসকে দেন। এর ফলেই ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। গোটা ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি মূলত ছাত্রসংসদের পুনর্বহাল, যা ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে অবলুপ্ত করে দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত শারজিল ইমামের মুক্তির দাবি এবং জম্মু ও কাশ্মীর নিয়েও স্লোগান তোলেন আন্দোলনকারীরা।
গোটা ঘটনায় সরব গেরুয়া শিবির। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশ-বিরোধী স্লোগান লেখার কারণেই উত্তপ্ত হচ্ছে ক্যাম্পাস। ইতিমধ্যেই বিজেপি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে লেখা এক চিঠিতে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিট্টাস উল্লেখ করেন, “প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই।” তিনি বাকস্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশিকার কথাও তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, দিল্লির জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে বিক্ষোভ চলাকালীন আজাদ কাশ্মীরের স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল দেশ। ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে প্রশাসন। ফের সেই স্লোগান নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া ২০২০ সালে দিল্লির দাঙ্গায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উঠে এসেছিল শারজিলের নাম। গত ৬ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি। আদালতে শারজিলকে দিল্লি দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। দাঙ্গার জেরে ৫৩ জন নিহত ও ৭০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন।
