শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ভারত চ্যাম্পিয়নসকে ৩ রানে হারিয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ব্যাট হাতে ১৪১ রানের সংগ্রহ গড়ার পর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতকে ১৩৮ রানে আটকে দিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র ও পেসার আবু জায়েদ রাহি।
ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান এনামুল। আর শেষ ওভারে চাপ সামলে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য থেকে দূরে রেখে জয় নিশ্চিত করেন রাহি। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন এনামুল।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারতের অধিনায়ক যুবরাজ সিং। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই দলের সংগ্রহ ৩০ রানে পৌঁছে যায়। তবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ বলে ১০ রান করে ইমরুল কায়েস আউট হলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রনি তালুকদার। নাসির হোসেন ২১ বলে ২৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। অন্যদিকে শেষ দিকে আরাফাত সানির ৩৮ বলে ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ভারতের হয়ে পীযূষ চাওলা তিনটি উইকেট নেন। পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত চ্যাম্পিয়নস। মাত্র ৪ রানে আম্বাতি রাইডু ফিরে গেলে শুরু হয় উইকেট পতন। এরপর স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিংয়ের বিদায়ে চাপে পড়ে ভারত। রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফলে ৫৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে দলটি।
সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন ঋষি ধাওয়ান ও ইরফান পাঠান। ঋষি ১৮ বলে ২৪ রান করলেও তাঁর ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করেন। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলার চাপ বাড়তে থাকায় জয়ের পথ কঠিন হয়ে ওঠে ভারতের জন্য।
এ সময় বল হাতে আলো ছড়ান এনামুল হক জুনিয়র। তাঁর ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে ভারত। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি।
তবে শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আবারও জমে ওঠে লড়াই। তাঁদের ব্যাটে ভারতের জয়ের আশা ফিরে আসে। শেষ ওভারে সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠলেও স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত বোলিং করেন আবু জায়েদ রাহি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
ফলে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। ব্যাট হাতে মাঝারি সংগ্রহের পর বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং শেষ মুহূর্তের দৃঢ়তায় স্মরণীয় একটি জয় পেল দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস: ২০ ওভারে ১৪১/৯। রনি তালুকদার ৪০, আরাফাত সানি ৩৭, নাসির হোসেন ২৪। পীযূষ চাওলা ৩ উইকেট, পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান ২টি করে উইকেট।
ভারত চ্যাম্পিয়নস: ২০ ওভারে ১৩৮/৮। পবন নেগি অপরাজিত ২৬, পীযূষ চাওলা অপরাজিত ২৪, ঋষি ধাওয়ান ২৪। এনামুল হক জুনিয়র ৪ উইকেট, আবু জায়েদ রাহি ২ উইকেট।
ফল: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: এনামুল হক জুনিয়র।
-20261012023941.jpg&w=1440&q=75)