বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশী আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ঐশী আক্তার (২৫) উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের চরসাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সোহেল খানের সাথে পারিবারিকভাবে ঐশীর বিবাহ হয়। বিবাহর পর থেকেই ঐশীকে মারধর করতেন সোহেল। এরই ধারাবাহিকতায় তিন দিন আগে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঐশীর মাথায় ও কপালে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহেল। এতে ঐশীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে চোখে ঘুষি দিলে ঐশী অজ্ঞান হয়ে পরেন। ঘটনার তিন দিন পর গতকাল গভীর রাতে ঐশীর শরীরের অবস্থার অবনতি হলে আজ সকালে তাকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসা মেডিকেল অফিসার তূর্য্য অধিকারী জানান, সকালে সাড়ে ৭টার দিকে মৃত অবস্থা ঐশীকে নিয়ে সোহেল ও তার ভাই হাসপাতালে আসেন। এ সময় তার মাথা, কপাল ও চোখসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতাল থেকে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা এসে সোহেল ও তার ভাই তানভীরকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় মস্তিষ্কে ও চোখে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মাথায়, কপালে ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।’
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খান ও সোহেলের ছোট ভাই তানভীর খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের মাথা, কপাল ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
