Published on
:
2 min read
রান্নাঘরের তোয়ালে বা ন্যাপকিন প্রতিদিনের কাজের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। উথলে পড়া দুধ, মাইক্রোওয়েভের ভিতরে ছিটকে ওঠা তেল-হলুদ, কাউন্টারটপের উপর হাত ফস্কে পড়ে যাওয়া মাছের ঝোল—সব কাজেই ন্যাপকিনের ব্যবহার হয়। তবে যত্নের অভাবে অল্প দিনেই এই কাপড়ে জেদি তেলের দাগ পড়ে যায়। তেলচিটে পড়ে এবং এক ধরণের বিচ্ছিরি গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে বাসা বাঁধে নানা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। পরিষ্কার করতে ঘন ঘন সোডা-গরম জলে ফোটালে তোয়ালের ফ্যাব্রিক নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। বাজারের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার না করেই ঘরোয়া উপায়ে রান্নাঘরের ন্যাপকিন একদম নতুনের মতো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব।
১. সঙ্গে সঙ্গে ধোয়া
দাগ যত পুরোনো হবে, তা তোলা তত কঠিন। তাই ন্যাপকিনে ঝোল বা তেলের দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।
তেলের দাগ: দাগের উপর কিছুটা ডিশওয়াশ লিকুইড বা বাসনের সাবান সরাসরি দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
হলুদ বা টমেটোর দাগ: বেকিং সোডার ঘন পেস্ট তৈরি করে দাগের উপর ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। মনে রাখবেন, শুরুতে গরম জল ব্যবহার করলে দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে, তাই সবসময় ঠান্ডা জল দিয়ে ধোয়া শুরু করুন।
২. ভিজিয়ে রাখুন
অতিরিক্ত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত তোয়ালের জন্য তা জলে ভিজিয়ে রাখা পারেন। গামলায় গরম জল নিয়ে তাতে ২ চামচ বেকিং সোডা এবং সামান্য ডিশওয়াশ সোডা বা লিকুইড মেশান। ন্যাপকিনগুলো এতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সাদা কাপড়ের জেল্লা ফেরাতে এতে সামান্য হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মেশানো যেতে পারে।
৩. গরম জলে আলাদা করে কাচা
রান্নাঘরে ব্যবহার করার তোয়ালে কখনই পরিধানের জামাকাপড়ের সঙ্গে কাচবেন না। এতে রান্নাঘরের নোংরা ও ব্যাকটেরিয়া অন্যান্য কাপড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সুতির ন্যাপকিনের ক্ষেত্রে একটু বেশি গরম জলের প্রয়োজন। গরম জল জীবাণু ধ্বংস করে এবং তেলতেলে ভাব কাটাতে সাহায্য করে।
৪. দুর্গন্ধ দূর করার সহজ টোটকা
কাচার পরেও যদি তোয়ালে থেকে দুর্গন্ধ না যায়, তবে বুঝতে হবে ভিতরে ব্যাকটেরিয়া রয়ে গিয়েছে।
এক বালতি ইষদুষ্ণ জলে ১ কাপ হোয়াইট ভিনিগার মিশিয়ে কাপড় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে নিন।
ধোয়ার পরে তোয়ালে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। রোদের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।