রূপপুরে প্রথম ইউনিটের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন, অনুমোদনের অপেক্ষা
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত রুশ প্রতিনিধিদল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিনিধিদল প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে। শুক্রবার রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেয়।
ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ফিজিক্স টেস্টের প্রতিবেদনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অনুমোদন পেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে। এরপর শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপ। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। তবে এ লক্ষ্য পূরণ নির্ভর করছে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।
