ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর বিলপাড়া গ্রামের রাশিদা খাতুন। বয়স এখন ৪৫ ছুঁই ছুঁই। মাত্র ৮ বছর বয়সে গাছ থেকে পড়ে এক পা হারিয়েছেন। ১৮ বছর আগে দুটি শিশু সন্তানসহ তাকে ফেলে রেখে অন্য একজন বিয়ে করে চলে যান স্বামী। শারীরিক প্রতিবন্ধীর কারণে পদে পদে পেয়েছেন অবহেলা। কঠিন এই চড়াই-উতরাইয়ে কখনও কারও কাছে হাত পাতেননি, বেছে নেননি ভিক্ষাবৃত্তিকে।
রাশিদা স্থানীয় কারখানায় এক সময় দিন হাজিরায় কাজ করলেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে চাকরি হারিয়েছিলেন অনেক আগে। নিজের কোনো জমি নেই, নেই ভাতা কার্ড। তবুও জীবনের অনিশ্চয়তায় হার না মেনে ধারদেনা করে একটি মাত্র ছাগল কিনে নতুন আশা বোনেন। পরম মমতায় ওই ছাগল লালন-পালন করতে করতে আজ তিনি ৩০টি ছাগলের মালিক।
ভাঙা পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রতিদিন ঈশ্বরদীর পথে পথে ও রেললাইনের ধারে ছাগল চরিয়ে দুবেলা মা ও সন্তানদের আহারের সংস্থান করছেন রাশিদা। তিনি জানান, ‘ভয়াবহ দুঃসময়েও ভিক্ষা করিনি, কারও কাছে হাত পাতিনি। ভাঙা পায়ে কষ্ট হলেও ছাগলগুলোকে সন্তানের মতো লালন করি। একটা প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের জন্য বহু আবেদন করেও মেলেনি।’
রাশিদার প্রতিবেশী রওশন আরা বেগম বলেন, ‘শত কষ্টের মধ্যেও রাশিদা মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখেছেন। ভাঙা পায়ে ঘুরে ঘুরে ছাগল পালনের মাধ্যমে সন্তানদের মানুষ করছেন- যা এ যুগের অনন্য দৃষ্টান্ত।’
রাশিদার সংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুবীর কুমার পাল বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে যেভাবে সততার সঙ্গে রাশিদা জীবনযাপন করছেন; তা অনুকরণীয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, নতুন করে আবেদন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও রাশিদা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ছাগল পালন করে যে অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অন্য নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
কেএমএএ/আপ্র/২১.১০.২০২৬
