কারওয়ান বাজারের ব্যস্ত আড়তের ভেতরে ২০ টাকায় মেলে ঝাল ছোলা আর মিষ্টি বুন্দিয়ার মিশেল। রমজানের ইফতারির স্বাদ এখানে পাওয়া যায় সারা বছর। শ্রমিক থেকে করপোরেট কর্মী সবার ভিড় জমে ছোট্ট এই দোকানে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ইত্তেফাক ভবনের পূর্ব পাশে রয়েছে কাঁচামালের আড়ত। সেই আড়তের ভেতরে ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়বে একটি দোকান। দোকানে চায়ের পাশাপাশি মিষ্টিজাতীয় খাবার ও তেলেভাজা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আর সেখানেই সাধারণ এক খাবারের টানে প্রতিদিন ভিড় করেন অনেকে। খাবারটি হলো মিষ্টি বুন্দিয়া আর ঝাল ছোলার মিশ্রণ।

রমজান মাসে ইফতারের প্লেটে ছোলা-বুন্দিয়া একসঙ্গে খাওয়ার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে আমাদের দেশে। তবে কারওয়ান বাজারের এই দোকান সেই ইফতারের স্বাদ সারা বছরই ধরে রেখেছে। অনেকেই বলেন, এক প্লেট ছোলা-বুন্দিয়া স্বাদের পাশাপাশি দ্রুত শক্তিও জোগায়।

খাবারটি পরিবেশন করা হয় খুব সাধারণভাবে। ছোট্ট একটি মেলামাইনের পিরিচে ছোলার ওপর ঢেলে দেওয়া হয় মিষ্টি রসে ভেজা লাল-হলুদ বুন্দিয়া। সঙ্গে থাকে একটি ছোট চামচ। দাম মাত্র ২০ টাকা।
এক চামচ মুখে দিলেই পাওয়া যায় অন্য রকম স্বাদ। প্রথমে ছোলার মসলা আর মরিচের হালকা ঝাল, ঠিক পরের মুহূর্তেই বুন্দিয়ার মিষ্টি রস সেই ঝালভাব ভুলিয়ে দেয়। ঝাল আর মিষ্টির এই সহজ মিশ্রণই সাধারণ এই খাবারকে এত জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ছোলা-বুন্দিয়ার পাশাপাশি দোকানে সারাক্ষণ ভাজা হয় মচমচে গরম শিঙাড়া, সমুচা আর জিলাপি। তবে বেশির ভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ এই বুন্দিয়া আর ছোলার মেলবন্ধনই।

দোকানটিতে গেলে একটি মজার দৃশ্য চোখে পড়ে। কারওয়ান বাজারের আশপাশেই রয়েছে অনেক ব্যাংক, সংবাদপত্রের কার্যালয় ও বড় বড় করপোরেট অফিস। ফলে বিকেল হতেই দোকানের সামনে ভিড় জমতে থাকে। একদিকে কাঁচামালের বস্তা টানা ক্লান্ত শ্রমিক দাঁড়িয়ে চামচ দিয়ে খাচ্ছেন ২০ টাকার ছোলা-বুন্দিয়া। ঠিক তাঁর পাশেই অফিসের পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে দোকানের বেঞ্চে বসে একই খাবার উপভোগ করছেন কোনো করপোরেট চাকরিজীবী।

এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলেন, “বিকেলে কাজের ফাঁকে একটু হালকা নাশতা করতে প্রায়ই এখানে আসি। এত কম টাকায় এমন ঝাল-মিষ্টি স্বাদ কারওয়ান বাজারের আর কোথাও পাওয়া যায় না। অনেকে শুধু ছোলা বিক্রি করেন। কিন্তু বুন্দিয়া আর ছোলার মিশ্রণ শুধু এখানেই পাওয়া যায়।”
শহরের বড় বড় রেস্তোরাঁর লোভনীয় খাবার কিংবা চড়া দামের ফাস্টফুডের ভিড়ে আড়তের ভেতরের এই ছোট্ট দোকানটির পরিবেশ খুবই সাধারণ। তবে ২০ টাকার এক পিরিচ ছোলা-বুন্দিয়াতেই দূর হয় অনেকের সারা দিনের কাজের ক্লান্তি।
দোকানটির বিক্রেতা জানান, সকাল থেকেই পাওয়া যায় ছোলা-বুন্দিয়া। সারা বছরই এটি বিক্রি করেন তাঁরা। তবে বেশির ভাগ দিন সন্ধ্যার মধ্যেই ছোলা-বুন্দিয়া শেষ হয়ে যায়।

তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো, দোকানটি আড়তের একেবারে ভেতরে হওয়ায় এখানে অভিজাত রেস্তোরাঁর মতো পরিপাটি পরিবেশ কিংবা শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা আশা করা ঠিক হবে না। যাঁরা সাধারণ পরিবেশ ও লোকাল ভাইবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, তাঁদের জন্যই এই দোকান।
ছবি: লেখক
