সরজমিনে জালালাবাদ পার্কে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। ফটকের সামনের সড়কে কয়েকজন হকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
সিলেট ব্যস্ত নগরীর কোলাহলের মাঝখানে ৯৪ শতক জায়গাজুড়ে সবুজ উদ্যান। এ উদ্যানের নাম ‘জালালাবাদ পার্ক’। এটি একসময় ছিল নগরবাসীর হাঁটাচলা, আড্ডা আর একটু নির্মল বাতাস নেয়ার অন্যতম জায়গা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পার্কটির প্রধান ফটক। ফলে বাইরে থেকে সবুজ প্রাঙ্গণ দেখা গেলেও ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নেই নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের।
সরজমিনে জালালাবাদ পার্কে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। ফটকের সামনের সড়কে কয়েকজন হকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বন্ধ ফটকের ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে গোলচত্বরে বসে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দুজন কর্মী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকেই পার্কে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এরপর আর ফটক খোলা হয়নি। তবে পার্কের ভেতরে নিয়মিত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ঘাস ও গাছের ঝরে পড়া পাতা পরিষ্কার করাসহ পার্কের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও নিরাপত্তার দেখভাল করাই এখন তাদের কাজ। তবে এখন সেখানে বাইরের কারো প্রবেশের সুযোগ নেই।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে জালালাবাদ পার্কের স্থানে ১৬তলা বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল সিসিক। সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিসিক। এরপর ২০১০ সালের তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের উদ্যোগে পার্কটি সংস্কার করা হয়। নগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য খুলে দেয়া হয় এর দুয়ার। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দুই দফায় পার্কটি উন্মুক্ত থাকত। সকাল-বিকাল হাঁটতে আসা মানুষ আর আড্ডায় জমে উঠত সবুজ প্রাঙ্গণ। কিন্তু সে প্রাণচাঞ্চল্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সালে পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেয়া হয়। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি পার্কের চারদিকে প্রায় ১০ ফুট উঁচু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। পরে শিশুপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সিসিক। এরপর ধীরে ধীরে অব্যবস্থাপনায় আকর্ষণ হারাতে থাকে পার্কটি। করোনাকালেও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল পার্কের দুয়ার।
কুমিল্লা থেকে সিলেট বেড়াতে আসা মাহবুব রহমান জানান, ক্বিন ব্রিজ থেকে নেমে সুন্দর একটি ফটক দেখে সামনে এসেছিলেন তিনি। ফটকে ‘জালালাবাদ পার্ক’ লেখা দেখে ভেবেছিলেন ভেতরে গিয়ে কিছু সময় কাটাবেন। কিন্তু গেট বন্ধ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। তাই বাইরে থেকেই ভেতরের দৃশ্য দেখছিলেন।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন জানান, ক্বিন ব্রিজ পেরিয়ে শহরের প্রবেশদ্বারেই একখণ্ড সবুজের উদ্যান জালালাবাদ পার্ক। পর্যটকরা নগরে অবস্থানকালে এখানে অবসর সময় কাটাতে পারতেন। এতে নগর পর্যটন আরো সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করে সময় নির্ধারণের মাধ্যমে পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া উচিত।
এদিকে ৫ অক্টোবর নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন। জানা গেছে, সংস্কারের নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখা হবে। থাকবে বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে পার্কের প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।
এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু জালালাবাদ পার্ক নয়, নগরবাসীর জন্য সিলেটের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থানেও উন্মুক্ত উদ্যান নির্মাণ করবে সিটি করপোরেশন। জালালাবাদ পার্ক শিগগিরই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।’
