সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার বিকেলে নিহত আলেমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। এ সময় এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকালে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এমপি ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। নিহত মুফতি নাসরুল্লাহর বড় ভাই মুফতি আহসানুল্লাহকে সান্ত্বনা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুফতি নাসরুল্লাহ ভাইকে আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন। আপনারা তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, নিশ্চয়ই আপনারা এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।’
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুমের লাশ সৌদি আরবেই দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নিহতের ভগ্নিপতি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
নিহত আলেমের তিন শিশুসন্তানের খোঁজখবর নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘লালবাগ মাদরাসায় নাসরুল্লাহ ভাই আমাদের চার ব্যাচ সিনিয়র ছিলেন। দেখা হলেই তিনি হাসিমুখে কথা বলতেন। লালবাগ শাহী মসজিদের বারান্দায় দীর্ঘ সময় কিতাব মুতালাআ (অধ্যয়ন) করতেন; কখনো কখনো ফজরের সময়ও দেখতাম সারারাত কিতাব নিয়ে বসে আছেন। ওমরাহতে গিয়ে চুল কাটার নিয়তে তিনি বাবরি চুল রেখেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তার ইহরামের কাপড়কেই কাফনের কাপড় বানিয়ে দিয়েছেন এবং জান্নাতুল বাকিতে তাঁর ঘরের মেহমান হিসেবে কবরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।”
তিনি আরো যোগ করেন, এত অল্প বয়সে তিনটি শিশুর পিতৃহারা হওয়ার বেদনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে থাকা এবং নিষ্পাপ এ শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সহযোগিতা করা সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
সাক্ষাৎ শেষে এনসিপি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ মরহুম মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার শক্তি দানের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
