২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহির। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পূর্বাচলের পুলিশ হাউজিংয়ের একটি প্লটে অভিযান চালিয়ে ২৬ নারীসহ ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় মদ, ইয়াবা ও গাঁজা জব্দ করা হয়।
গতকাল সোমবার রাতে এ অভিযান চালায় ডিবির উত্তরা বিভাগ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি জানায়, প্লটটির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জাহির। তিনি ২৪তম পুলিশ ব্যাচের কর্মকর্তা।
অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে অভিযান চালানো হয়।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই প্লটে নিয়মিত ডিজে পার্টি ও মাদক সেবন চলতো। এসব পার্টির প্রধান আয়োজক প্লটটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জাহির।
তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি এসব অনুষ্ঠানের সহআয়োজক হিসেবে কাজ করতেন। মাহবুব ডিবিকে জানিয়েছেন, পার্টি থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ পেতেন জাহির, আর বাকি ৩০ শতাংশ তিনি নিতেন।
ডিবি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি বুকিং দেওয়া হতো। যারা বাড়িটি বুক করতেন, তাদের জন্য নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো।
ইলিয়াস কবির বলেন, গ্রেপ্তারদের সামারি ট্রায়ালের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর আবদুল্লাহ আল জাহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল জাহির ডেইলি স্টারকে বলেন, ওই প্লটে জন্মদিনের অনুষ্ঠান ও পারিবারিক সমাবেশ আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এয়ারবিএনবির মাধ্যমে সেখানে বুকিং নেওয়া হয়। তবে তাদের নিয়ম অনুযায়ী, মাদক ও ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ। এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়।
গতকাল রাতের অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্লটটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে অতিথিরা মাদক নিয়ে আসেন, যা ডিবির অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে আমাদের অপরাধ কী? আমরা ভাড়া দিয়েছি। আমাদের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে মাদক ও ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাদের কাছে মাদক পাওয়া গেছে, তারা অপরাধ করেছেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি দাবি করেন, সেখানে প্রতিদিন নয়, মাসে দুই থেকে তিনটি পার্টির আয়োজন করা হতো।
