আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ের এক নির্জন জাতীয় সড়কের ধারে একটি পরিত্যক্ত বাক্স থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তাক্ত দেহকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা এলাকায়। সেই রহস্যের জট খুলতে পুলিশের খুব বেশি সময় লাগেনি। মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘটনার পর্দাফাঁস করে মৃতের স্ত্রী, তাদের এক প্রতিবেশী এবং আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত যুবকের নাম সোনু। উন্নাও-রায়বেরেলি জাতীয় সড়কের পাশে বাক্সে ভরা তাঁর নিথর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ দেখতে পায়, একটি ছোট মালবাহী গাড়ি (লোডার) বাক্সটি নিয়ে অচলাগঞ্জের দিকে যাচ্ছে এবং ফেরার সময় গাড়িটি খালি ছিল। গাড়ির নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ দ্রুত চালকের সন্ধান পায় এবং সেখান থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর সূত্র বেরিয়ে আসে। জানা যায়, বাক্সটি ফেলার জন্য গাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল বারোশো টাকায়। এই তথ্য ধরেই তদন্তকারীরা পৌঁছান সোনুর স্ত্রী নেহার কাছে।
পুলিশি জেরার মুখে নেহা তাঁদের সংসারের এক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সোনু নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তাঁর ওপর নির্মম অত্যাচার চালাতেন এবং বাড়িতে অন্য মহিলাদের নিয়ে আসতেন। ঘটনার দিনও অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর সোনু মারধর করায় নেহা পুলিশেও খবর দিয়েছিলেন, পুলিশ এসে সোনুকে সতর্ক করে যায়। নেহার বয়ান অনুযায়ী, সেদিনই রাতে প্রতিবেশী জিতেন্দ্র সিং ওরফে রাহুলের সঙ্গে মদ খেতে বসেন সোনু। সেখানে দুজনের মধ্যে নতুন করে বচসা ও হাতাহাতি বাধে। সোনু মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় ও নাকে চোট পান। নেহার দাবি, বচসার এক পর্যায়ে রাহুলই সোনুর গলা টিপে তাঁকে খুন করেন। এরপর দেহ লোপাট করতে বাক্সে ভরে মালবাহী গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। তবে মাঝপথে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হলে অভিযুক্তরা বাক্সটি রাস্তার ধারেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
যদিও রাহুলের দাবি সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, নেহাই আগে সোনুকে খুন করেছিলেন। রাহুলকে শুধু বলা হয়েছিল অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য একটি গাড়ি আর কাজের লোকের ব্যবস্থা করে দিতে। পুলিশ জানিয়েছে, নেহা ও সোনু প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে বাস করছিলেন এবং তাঁদের একটি পাঁচ বছরের সন্তানও রয়েছে। কাঞ্চন নগরের ভাড়া বাড়িতে দুজনের তীব্র অশান্তির কারণে বাড়িওয়ালা তাঁদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোটা ঘটনায় নেহা ও রাহুল ছাড়াও এক নাবালক এবং তৌফিক নামের এক যুবককে দেহ লোপাটে সহায়তার অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে সোনুর মৃত্যু হল এবং এই হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এখন সব দিক খতিয়ে দেখছে।
