যুবদল নেতা হ'ত্যা: গু'লির ক্ষত শনাক্তে ব্যর্থ সেই চিকিৎসক বরখাস্ত
মাগুরায় যুবদল নেতা ও রয়েল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাকের হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর মাথায় গুলির ক্ষত শনাক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পূজার ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মাইনুল হাসান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাকের হোসেনকে প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মাইনুল হাসান। ওই সময় ইসিজি রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত থাকার বিষয়টি তখন শনাক্ত করা হয়নি। পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের প্রস্তুতিকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্র দেখতে পান। এরপর তাঁকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির জানান, পূজার ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে, সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়ার সময় যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা পৌর বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাকের হোসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা রনি শিকদার এবং মাগুরার বুজরুকশ্রীকুন্ডি গ্রামের শামীমা তাবাসসুম।

‘দলীয় স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করবে না সরকার’
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করবে না সরকার। দেশের ও জনগণের স্বার্থে এ বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি একটি বড় দায়িত্ব। কারণ, জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ্যানি চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছর পুলিশ বিভাগ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেভাবেই চলেছে। এখন নির্বাচিত সরকার জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে এ বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সেই সরকারের কোনো জবাবদিহি ছিল না। যখন যা ইচ্ছা, যেটা প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেটাই করেছে। এতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, অন্যান্য ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ কেউই প্রকৃতভাবে উপকৃত হয়নি। এ কারণে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি যত শক্তিশালী হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীদের অবস্থান তত বেশি সুদৃঢ় হবে। শুধু সরকার দেশপ্রেমিক হলে চলবে না, দেশের সবাইকে দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যবসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসার পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির চেয়ারম্যান সমীর কর্মকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, বাজুস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এবং বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহাসহ বাজুসের নেতারা।

ফখরুদ্দীন-হাসিনার হাত ধরেই দেশে স্বৈরাচারের উত্থান: মীর শাহে আলম
বগুড়াকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। উন্নয়নের সুফল দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগলেও বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন: সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত বগুড়ায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তিনি জানান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শিগগির শুরু হবে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বিভিন্ন মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশন ও গোপালগঞ্জের উন্নয়নে বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা কারও পকেটের লোক নয়, গত নির্বাচনে তাঁরা তা প্রমাণ করেছেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ও মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। শুধু গত ১৭ বছরের নির্যাতন নয়, গত ২০ বছরের নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, নিজেদের দলেও আছে। হিংসা থেকে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই।’ শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা তা করব, ইনশাআল্লাহ। বিগত ২০ বছরে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভণ্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী। তিনি বলেন, বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আরাফাত রহমান কোকোর নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলেও সেটি অবহেলা ও অযত্নে পড়ে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে রুমন বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও ন্যূনতম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।’ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ ইসলাম আলমগীর পাভেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কুদরত-ই-জাহান, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ এবং নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শোকরানা প্রমুখ।

‘বিরোধী দলের উস্কানিতেই ওই যুবক প্রধানমন্ত্রীকে স্নাইপারে হ'ত্যার হু'মকি দিয়েছে’
১৯৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে দেশে আবারও অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর চলাকালে স্নাইপার দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি সংবলিত এক যুবকের ফেসবুক পোস্টের পেছনে বিরোধী দলের ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে। বিরোধী দলের প্ররোচনা পেয়েই ওই যুবক রাষ্ট্রপ্রধানকে এমন ভয়াবহ হুমকি দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত ও স্বৈরাচার এরশাদের সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ৯৬ ও ৮৬ তে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছিল জামায়াত। এখন আবার তারা মিলে গেছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ সময় তিনি জামায়াত আমিরের সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতের আমির সবসময় মিথ্যা কথা বলেন। জামায়াতের নেতারা তাকে দরবেশ ভাবতে পারে, কিন্তু জামায়াতের আমির একের পর রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি জাসদ ছাত্রলীগ করতেন, সন্ত্রাস করেছেন, মিথ্যা কথা বলেছেন। জামায়াতে যোগ দেয়ার পরে কি তিনি মিথ্যা ছেড়ে দিয়েছেন? জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত আছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মনোহরদীতে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। জনগণকে প্রশাসনিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্ত করতে হবে। মঙ্গলবার রাতে নরসিংদীর মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা বিনিময় ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জনগণের ট্যাক্স, শ্রমিকদের শ্রম এবং প্রবাসীদের ঘামঝরানো উপার্জনের অর্থে দেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে প্রশাসনের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। সরকার জনগণের জন্য শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে চায়। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন স্বাস্থ্যসেবা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব কেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের মা-বোনদের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে। দুর্গাপূজা উদযাপন প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, এবারের পূজার আনন্দ-উৎসব ও মানুষের মনমানসিকতায় অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। স্বাধীনতার পর এবার সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার সরকার সর্বোচ্চ অনুদান দিয়েছে এবং পূজা উপলক্ষে শাড়িও উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের জন্য সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা, মনোহরদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান বকুল, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শিপন এবং মনোহরদী হিন্দুপাড়া সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি মন্দিরের সভাপতি শ্যামল রায় ও সাধারণ সম্পাদক সুমন বর্মণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনোহরদী পৌরসভার পাঁচটি পূজামণ্ডপে অনুদান প্রদান করেন। পরে পূজার উপহার হিসেবে শাড়ি বিতরণ করেন।

