Published on
:
2 min read
মন দিয়ে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে ঈশ্বরের আরাধনা করলে সহজেই তাঁকে প্রসন্ন করা যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক নিয়মে ভগবানকে ডাকা। সকল পুজোরই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। সেই নিয়ম মেনে পুজো করলেই ভক্তের ওপর প্রসন্ন হন ভগবান। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোরও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তার মধ্যে অন্য়তম হলো লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ।
লক্ষ্মীর পাঁচালির মাহাত্ম্য
পুজোর শেষে পাঁচালি পাঠ লক্ষ্মীপুজোর একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর ফলে লক্ষ্মী দেবী তুষ্ট হন। পাঁচালিতেই লক্ষ্মীপুজোর সব মন্ত্র লেখা থাকে। মা লক্ষ্মীর আহ্বান মন্ত্র পাঠ করে মায়ের ঘটে বা চরণে ফুল দিয়ে পুজো অর্চনা শুরু করুন। হাতে ফুল নিয়ে পাঁচালি পড়তে হবে। শেষে শঙ্খ বাজিয়ে মনের বাসনা জানিয়ে পুজো সমাপ্ত করতে হবে।
পাঁচালি পাঠের উপকারিতা
লক্ষ্মীপুজোর দিন লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করা ছাড়াও ১০৮ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতে হবে। লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়িতে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ স্থাপন করলে খুবই শুভ ফল পাওয়া যায়। এই দিন দেবীর পায়ের সামনে পাঁচটি কড়ি রেখে পুজো করান এবং সেই কড়িগুলো ক্যাশবাক্সে রেখে দিন, এর ফলে সংসারে সমৃদ্ধি আসবে। মনে করা হয় লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করলে সকল রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করলে কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় উন্নতি ঘটে। বাড়ি থেকে রোগ-ব্যাধি ও নেগেটিভ শক্তি দূরে থাকে। লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠে ঋণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং যে বাড়িতে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করা হয়, মনে করা হয় সেখানে কোনও অশুভ ঘটনা ঘটে না।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২০২৬ শুভক্ষণ
এই বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হচ্ছে ২৫ অক্টোবর। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে রবিবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে পূর্ণিমা লাগবে। সোমবার, সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে পূর্ণিমা ছেড়ে যাবে। যাঁরা গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করবেন, তাঁরা রবিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধে ৬টা ৩৫ মিনিটের পুজোর সবচেয়ে ভালো সময় পাবেন।
আবার বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, রবিবার সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে কোজাগরী পূর্ণিমা তিথি শুরু। পরদিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শেষ। তাই এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করতে পারেন।
২৫ তারিখ হবে পূর্ণিমার নিশিপালন। কোজাগরী পূর্ণিমার এই নিশি মহানিশি নামে পরিচিত। এই রাত্রি জাগরনে ধনবৃদ্ধি ঘটে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ এই চতুর্বর্গ প্রাপ্তির আশায় মাতৃ আরাধনায় যুক্ত হন সবাই। অনেকেই সারা বছর প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পুজো করে থাকেন। এছাড়া শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মীর পুজো হয়।
