সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগেই জাতীয় প্রেসক্লাবে এসেছেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে শত শত নেতাকর্মী ছিলেন।
প্রেসক্লাবে আসার পর নেতাকর্মীরা ইশরাক হোসেনের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা , 'ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই। রাজপথ ছাড়ি নাই', 'ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে' স্লোগান দেন।
নেতাকর্মীদের কারও কারও হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। ইশরাক হোসেন প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আসলে নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এরপর নেতাকর্মী বেষ্টিত হয়ে প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে যান ইশরাক হোসেন। তখনও হলের ভেতরে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা।
বেলা পৌনে ২টার দিকে ইশরাক হোসেন কালো রঙের গাড়িতে করে প্রেসক্লাবের ফটক দিয়ে ঢোকেন।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন।
পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, তিনি আজ বেলা দুইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন।
পোস্টে ইশরাক হোসেন আরও লেখেন,
‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশা আল্লাহ।
‘পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে।
‘দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব।
‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল!
‘মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
গতকাল রোববার সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
