কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে ৮৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ২৪ ঘণ্টার গ্রেপ্তার ও উদ্ধারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিস থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৪ জন, আগের মামলায় ৫৭ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩২ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাতজন এবং ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ২৭ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার পরোয়ানায় ১২৮ জন এবং সাজা পরোয়ানায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী এবং ৫৭ জন মাদকসেবী। এ ছাড়া নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২০ জন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৪৮টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে ২ হাজার ৭৬১টি ইয়াবা, ৯০ কেজি ৪২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫ লিটার চোলাই মদ, ৯০ বোতল বিয়ার, ৫৮ বোতল বিদেশি মদ ও ৬৭ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিনি কাভার্ডভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৩৪ জনের মধ্যে ৩৭২ জনকে মুচলেকায় অভিভাবক বা জিম্মাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে লক্ষ্মীপুরে ৯৫ জন, নোয়াখালীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৭৩, চাঁদপুরে ৬৯, কক্সবাজারে ৩২, খাগড়াছড়িতে ২৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯, রাঙামাটিতে ১৬ এবং ফেনীতে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে নোয়াখালীতে পাঁচজন, চট্টগ্রামে চারজন, কুমিল্লায় দুজন এবং ফেনী ও খাগড়াছড়িতে একজন করে রয়েছেন।
