
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: | রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১২
ছবি সংগৃহীত।
সৌদি আরব লক্ষ্য করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার যে দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে, তা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয়েরই। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
একই দিন ডব্লিউটিআইয়ের প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে সর্বশেষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এই মূল্যচিত্র দেখা গিয়েছিল গত ২৯ এপ্রিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি আঘাত তুঙ্গে ছিল।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে শতকরা ৬ শতাংশ; আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার ঘটনা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এ মূল্যবৃদ্ধির জেরে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের জ্বালানি খাত ২.৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র : রয়টার্স
ইউরোপে ভয়াবহ গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০২:২৭

ছবি সংগৃহীত।
ইউরোপে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিভিন্ন শহরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করছে।
গবেষণার ফলাফল নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেকর্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে থাকতে পারে।
জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই মৃত্যুর হিসাব সামনে এল। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
বার্নস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব ঠেকানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ ও দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহই সবচেয়ে প্রাণঘাতী। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়েছে মহাদেশটি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। তবে কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।
সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০২:২৩

ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান।
জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানে একটি শীর্ষ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাবেন।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিনিয়োগের এই উদ্যোগের কথা উল্লেখ থাকতে পারে।
নিক্কেইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের অর্থ গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে গড়ে তোলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগের আওতায় আসতে পারে। জাপানের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, আলোচনায় বসছেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: | বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭

ছবি সংগৃহীত।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আগামী মাস থেকে আবার শুরু করতে সম্মতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ক্রেমলিন এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি রাজকীয় প্রাসাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুতিনের সঙ্গে এটি ছিল উইটকফের নবম সরাসরি বৈঠক।
বৈঠকের শুরুতে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়া অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয়। তাঁকে মুক্তি দিতে পুতিনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাশিয়ার হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ কখনো কখনো আটকে রাখছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নতুন আলোচনা সেই প্রতিশ্রুতির দুই বছরেরও বেশি সময় পর সামনে এল।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী ১০ নভেম্বর বা এর পর যেকোনো সময় আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগের দিন অসলোতে উইটকফের বৈঠকের ফল নিয়ে ক্রেমলিন খুব একটা আশাবাদী নয়।
উইটকফ পুতিনকে জানিয়েছেন, ওই আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার কিছু বিষয় রাশিয়াকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
ট্রাম্প, পুতিন ও শির বৈঠকের সম্ভাবনা
সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনকে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ বাড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। তা না হলে দেশটিকে ‘খুব খারাপ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
