চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকার চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর বাজার থেকে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে লুণ্ঠিত আরও ১৬৬ বস্তা চিনির সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে ১৫ টন বা ৩০০ বস্তা চিনি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধার করা চিনিগুলো আজিজনগর বাজারের রাজিব স্টোরের মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল কিনে স্থানীয় বিভিন্ন মুদি দোকানে বিক্রি করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চিনি উদ্ধারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজনগর বাজারের কয়েকটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। দোকানিরা জানিয়েছেন, বুধবার সকালেই তাঁরা জুয়েলের কাছ থেকে এসব চিনি কিনেছেন। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে জুয়েল পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর থেকে জুয়েলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিংসংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাভার্ডভ্যানটি পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, কাভার্ডভ্যানচালক আলমগীরের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেল্লাপাড়া এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে পটিয়ার বাদামতলী এলাকা থেকে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারগামী আরেক কাভার্ডভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদ তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
আবুল কালাম আজাদ জানান, বাদামতলী এলাকার একটি চায়ের দোকানের পাশে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে তাঁর কিছুটা জ্ঞান ফিরলে হাসপাতালে নিয়ে যান। আলমগীরের দাবি, তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়েছিল। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠা কাভার্ডভ্যানটির নম্বর যশোর-ট-১১-৪৬৫৭। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানটি গাড়িটি ভাড়ায় নিয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর জন্য ২৮ টন চিনি পরিবহনের উদ্দেশ্যে কাভার্ডভ্যানটি ভাড়া নেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। এরপর বাকি ১৫ টন চিনি পটিয়ার নাইখাইন এলাকার কারখানায় নেওয়া হচ্ছিল।
জাকির হোসেন আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সে সময় চালক গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মইজ্যারটেক এলাকায় অবস্থান করার কথা বলেন। পরে গাড়ির ত্রুটি সারিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকালে অন্য এক চালকের মাধ্যমে তিনি আলমগীরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পান।
চিনি সরবরাহকারী খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম চালকের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, নাসিরাবাদে চিনি খালাসের পর চালক গাড়ির বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে একাধিক অজুহাত দিচ্ছিলেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে আজিজনগর বাজারে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় রাজিব স্টোরের মালিক এসব চিনি কিনে বিভিন্ন মুদি দোকানে বিক্রি করেছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চিনির বাইরে বাকি ১৬৬ বস্তার সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
The post পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকার চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনা: ১৩৪ বস্তা উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৬৬ appeared first on দেশ সময়.
