রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন রিয়াজবাগ এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান তুহিন (২৩) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, আর্থিক সংকট, ঋণের বোঝা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত তুহিনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি রাজধানীর নবাবপুরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিক্রির একটি দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে বিয়ে করলেও তাঁর কোনো সন্তান ছিল না।
নিহতের খালাতো ভাই মো. তোহা জানান, রিয়াজবাগের একটি ভাড়া বাসায় তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও তিনি একসঙ্গে থাকতেন। তুহিন দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটন ও মানসিক চাপে ছিলেন। ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রিরও চেষ্টা করেছিলেন।
তোহা আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তুহিনকে কয়েকবার ডাকাডাকি করা হলেও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ডাইনিং টেবিলে রাখা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে দরজা খুলে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। এরপর বাসার ম্যানেজার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তুহিন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও আর্থিক সংকটের কারণে মানসিক চাপে ছিলেন। তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং এর আগে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী কুমিল্লায় বাবার বাড়িতে ছিলেন।
এসআই রফিকুল ইসলাম আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
