নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের রূপদিয়ায় কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্টের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ক্যাম্পে ৫৪ জন রোগীকে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
রোববার সকাল ৭টা থেকে রূপদিয়ার শ্রীপদ্দি সরদারপাড়ায় এ চিকিৎসাক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত কলিমুদ্দিন সরদারের স্মৃতি ও মানবিক আদর্শ ধরে রাখতে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কলিমুদ্দিন সরদার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই সরদার পরিবারের সদস্যরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবসেবামূলক কাজ করে আসছিলেন। পারিবারিক এসব উদ্যোগকে আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করার জন্যই মূলত এই ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা এবং দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তাসহ নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ক্যাম্পে বক্তব্য প্রদানকালে সরদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য নওশিন রেজা উরবি বলেন, তাঁদের প্রপিতামহ কলিমুদ্দিন সরদারের নামানুসারেই এই ট্রাস্টের নামকরণ করা হয়েছে। চার প্রজন্ম ধরে চলে আসা পারিবারিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করেই তাঁরা আর্তমানবতার সেবা এগিয়ে নিচ্ছেন।
নওশিন রেজা উরবি আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শুধু পূর্বপুরুষের স্মৃতি সংরক্ষণ নয়, বরং পূর্ববর্তী প্রজন্মের রেখে যাওয়া ভালো কাজ, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ সময় তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগীর কষ্টের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সমাজের অসুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় রোগীরা জানান, গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত উপকারী ও সময়োপযোগী। তাঁরা সরদার পরিবারের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান।
ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাসহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও অসচ্ছল মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চার প্রজন্মের পারিবারিক মানবসেবার এই ধারাবাহিকতা এলাকাবাসীর মধ্যে দারুণ প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
